গতকাল সংসদে নেত্রকোনা-৫ আসনের বিরোধী দলীয় সদস্য (জামায়াতে ইসলামী) মাসুম মোস্তফার টেবিলে উপস্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। আইনমন্ত্রী বলেন, ‘মামলাগুলোর মধ্যে সাতটির রায় এরই মধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে এবং বাকি ৭৩টি মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’
তিনি জানান, বিচারাধীন মামলাগুলোর মধ্যে ২২টি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া ৫১টি মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত আছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘নিষ্পত্তিকৃত সাতটি মামলায় মোট ৫৯ জন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। বাকিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।’
মো. আসাদুজ্জামান আরো জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধের এসব মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৪৬৩। তাদের মধ্যে ১৭৪ জন গ্রেফতার হয়েছেন, ২৮৮ জন পলাতক রয়েছেন, একজন আসামি মৃত্যুবরণ করেছেন এবং একজন আসামি খালাস পেয়েছেন।
আইনমন্ত্রী মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।’
এছাড়া কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপি দলীয় সদস্য মো. আবুল হাসনাতের টেবিলে উপস্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের নির্ধারিত ফি তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেক দক্ষ ও অভিজ্ঞ আইনজীবী লিগ্যাল এইড প্যানেলে কাজ করতে আগ্রহী হন না। পাশাপাশি মামলা পরিচালনা, কোর্ট ফি ও নথি সংগ্রহের মতো প্রাথমিক ব্যয়ের চাপও আইনজীবীদের ওপর পড়ে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার এরই মধ্যে প্যানেল আইনজীবীদের ফি ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে এবং তা আরো যৌক্তিকভাবে বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’
মন্ত্রী বলেন, দেশের দরিদ্র, অসচ্ছল ও বিচারপ্রাপ্তিতে অসমর্থ জনগণকে আইনি সহায়তা ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) সেবা আরো বিস্তৃত করতে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা’কে ‘বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর’-এ উন্নীত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ে লিগ্যাল এইড সেবা পৌঁছে দিতে সরকার ও ইউএনডিপির যৌথ উদ্যোগে ডিজিটাল লিগ্যাল এইড প্রকল্পের আওতায় ৩০০টি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন, মোবাইল অ্যাপ ও অনলাইন পোর্টাল চালু এবং ১৬৬৯৯ টোল-ফ্রি হেল্পলাইনের সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ চলছে।’
এছাড়া সচেতনতা বাড়াতে উঠান বৈঠক, গণশুনানি, পথনাটক, সেমিনার, লিফলেট বিতরণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসও পালন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, সরকারি ও বেসরকারি এনজিওগুলোর ডিজিটাল সমন্বয়ে কিছু কারিগরি ও আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষ করে ডেটা শেয়ারিং নীতিমালার অভাব, পৃথক কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার বিষয়টি বড় চ্যালেঞ্জ।
মন্ত্রী আরো জানান, এসব সমস্যা সমাধানে সমন্বিত ও নিরাপদ ডিজিটাল লিগ্যাল এইড ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ করছে।










