৭২ কেজি ওজনের বিশাল বাঘাড় মাছ।
এত
বড়
মাছ সচরাচর দেখা মেলা ভার।
বিক্রেতা দাম হাঁকাচ্ছেন ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
মাছটি ঘিরে উত্সুক ক্রেতাদের জটলা।
কেউবা আসছে একনজর দেখার জন্য।
কেউবা মানুষের জটলা দেখে ভেতরে কী আছে তা দেখতে উঁকি মারছে।
এছাড়া পাঁচ থেকে ২০ কেজি ওজনের গাঙচিল, চিতল, বোয়াল, রুই, কাতলা, মৃগেল, হাঙড়ি, গ্রাস কার্প, সিলভার কার্প, বিগহেড, কালিবাউশ, পাঙ্গাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ তো আছেই।
এ
চিত্র বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মাছের মেলার।
মূলত গ্রামীণ জীবনে মেয়েজামাইকে টাটকা মাছের স্বাদ দিতেই এ মেলার আয়োজন।
প্রতি বছরের মতো এবারো অনেক সাড়া ফেলেছে বগুড়ার পোড়াদহ মাছের মেলা।
গতকাল সকাল থেকে মেলায় মাছ আসার কথা থাকলেও আগের রাতেই মাছে ভরে গেছে মেলা প্রাঙ্গণ।
এভাবে ক্রেতা সমাগম ঘটে আগের রাত থেকেই মেলা জমে ওঠে।
এবারের মেলায় সবচেয়ে বড় মাছ এনেছেন স্থানীয় মহিষাবান গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী বিপ্লব।
তিনি জানান, যমুনা নদী থেকে ধরা ৭২ কেজি ওজনের বাঘাড় মাছ সকালে ১ হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে তিনি প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দাম হাঁকিয়েছিলেন।
মাছটি অনেক বড় হওয়ায় কেউ কেনার সাহস করেনি।
তাই মাছটি কেটে ১ হাজার ৬০০ টাকা কেজি দরে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।
মেলায় আসা রবিউল আলম অশ্রু জানান, আগের রাতেই মেলা শুরু হয়ে যায়।
সব
রকমের মাছ পাওয়া যায়।
বড়
মাছের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি।
মেলায় মাছের পাশাপাশি অন্যান্য পণ্যসামগ্রীও পাওয়া যাচ্ছে।
বগুড়ার গাবতলী থানার ওসি সাবের রেজা আহমেদ বলেন, পোড়াদহ মেলাটি সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।
দূর-দূরান্ত থেকে মানুষজন আসছে।
তাদের ভিড়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে নিরাপত্তা কর্মীদের।
বগুড়ার পোড়াদহ মেলা কমিটির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ৪০০ বছর আগ থেকে স্থানীয় সন্ন্যাসী পূজা উপলক্ষে গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের গোলাবাড়ী বন্দরের ঐতিহ্যবাহী এ পোড়াদহ মেলা বসে।
তবে গত দুই বছর থেকে মেলাটির স্থান পরিবর্তন হয়েছে।
প্রতি বছর বাংলা সনের মাঘ মাসের শেষ বুধবার বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার পূর্বে ইছামতি নদীর তীরে পোড়াদহ এলাকায় এ মেলার আয়োজন করা হয়।
মেলায় আসা মাছ ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম জানান, এ মেলায় গাঙচিতল, বোয়াল, রুই, কাতলা, মৃগেল, হাঙড়ি, গ্রাসকার্প, সিলভার কার্প, ব্রিগহেড, কালবাউশ, পাঙ্গাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাঝারি ও বড় আকারের মাছ পাওয়া যাচ্ছে।
এসব মাছ ওজনে ৫-২০ কেজি পর্যন্ত রয়েছে।
প্রতি কেজি গাঙচিতল ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা, চিতল ৮০০ থেকে ১ হাজার ৬০০, বোয়াল ৭৫০ থেকে ১ হাজার ৫০০, রুই ৫০০ থেকে ১ হাজার ২০০, কাতলা ৭০০ থেকে ১ হাজার, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৮০০, হাঙড়ি ২৫০ থেকে ৬০০, গ্রাসকার্প ৩৫০ থেকে ৫০০, সিলভার কার্প ৩৫০ থেকে ৫০০, ব্রিগহেড ৪০০ থেকে ৬০০, কালবাউশ ৪০০ থেকে ৬০০, পাঙ্গাশ ৩৫০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়।










