পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে ৩১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৬০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে, যা প্রচলিত বাজারমূল্যের অর্ধেকেরও কম ট্যারিফে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে কমিশন।

গতকাল প্রকাশিত ইউজিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ইউজিসিতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনবিষয়ক পর্যালোচনা সভায় জানানো হয়, বর্তমানে দেশে সৌরবিদ্যুৎ থেকে উৎপাদিত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের ট্যারিফ প্রায় ১৫ টাকা। পরিচালন ব্যয়ভিত্তিক (ওপেক্স) মডেলে তা অর্ধেকেরও কমে নামিয়ে আনা সম্ভব।

সভায় জানানো হয়, এরই মধ্যে ৪৭টি পাবলিক ও একটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৩১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণ করা হলে এ সক্ষমতা প্রায় ৬০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা সম্ভব হবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান, অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম ও অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম, ৩১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডিন অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

তিনি জানান, পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়িত ওপেক্স মডেলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের ট্যারিফ ছিল ৭ টাকা ৫০ পয়সা। প্রকল্পের উৎপাদন সক্ষমতা ৩ দশমিক ৫ মেগাওয়াটে উন্নীত হওয়ার পর প্রতি ইউনিটের ব্যয় কমে ৭ টাকায় নেমে আসে।

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে ভারতে প্রতি ইউনিট সৌরবিদ্যুতের ট্যারিফ ৩ টাকা ৬৯ পয়সা আর পাকিস্তানে ৩ টাকা ৯৩ পয়সা। বাংলাদেশেও প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা, শুল্ক ও কর কাঠামোয় সমন্বয় আনা গেলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় ৬ টাকা ৫০ পয়সায় নামিয়ে আনা সম্ভব।’

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, ‘ওপেক্স মডেলে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব থাকবে বেসরকারি বিনিয়োগকারীর ওপর। এতে সরকারের প্রাথমিক বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুধু ব্যবহৃত বিদ্যুতের মূল্য পরিশোধ করবে।’

তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয়ভাবে দরপত্র, তদারকি ও মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা গেলে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিদ্যুৎ ব্যয় কমবে এবং জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতাও হ্রাস পাবে।’

এরই মধ্যে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষামূলকভাবে এ মডেলের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বড় পরিসরে প্রকল্প সম্প্রসারণের প্রস্তুতি চলছে। এ পর্যন্ত ১৪টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

ইউজিসির লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের ব্যবহার গড়ে ২০ শতাংশ কমানো এবং জ্বালানি দক্ষতা বাড়িয়ে মোট বিদ্যুৎ চাহিদা ৫-১০ শতাংশ হ্রাস করা।