৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা পেছানোর দাবি ও শিক্ষার্থীর ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শিক্ষার্থীরা। গতকাল বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন স্টেশন বাজারে ঢাকা-রাজশাহী রেলপথে বিক্ষোভ করেন তারা। এতে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় অ্যাডমিট কার্ড পুড়িয়ে প্রতিবাদও জানান শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রিলিমিনারির পর লিখিত পরীক্ষার জন্য মাত্র দুই মাস সময় দেয়া হয়েছে; যা একদম অযৌক্তিক। ১১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষার জন্য দুই মাস কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে এলেও বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) তাদের একরোখা মনোভাবই পোষণ করে রেখেছে। আমরা এ সময় পিছিয়ে একটা যৌক্তিক সময়ে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

ফলিত রসায়ন ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী মাহবুব আলম বলেন, ‘পিএসসি আমাদের রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে। সবাই পায় ছয় মাস সময়, আমরা কেন দুই মাস পাব? আমাদের সঙ্গে এ বৈষম্য কেন করা হচ্ছে? আমরা আজ যৌক্তিক দাবি নিয়ে আন্দোলনে নেমেছি। ঢাকায় আমার ভাইদের ওপর স্বৈরাচারী কায়দায় হামলা করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমাদের দাবি, পর্যাপ্ত সময় দিয়ে যৌক্তিক সময়ে পরীক্ষা নিতে হবে। যতক্ষণ না আমাদের দাবি আদায় হবে ততক্ষণ আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী আনিকা বলেন, ‘ছাত্রদল, শিবির, এনসিপি সবাই এটা স্বীকার করেছে যে এটা যৌক্তিক আন্দোলন। তাহলে কেন আমরা এর কোনো সমাধান পাচ্ছি না। আমরা কেন বৈষম্যের শিকার হব। দুই মাসে তো সিলেবাসই শেষ করা সম্ভব না, সেখানে দুই মাসে কীভাবে আমরা পরীক্ষায় বসব। শহীদ মিনারের সামনে আমাদের ভাইয়েরা অনশনে বসেছে। তার পরও আমরা কোনো সমাধান পাচ্ছি না। আমরা চাই পরীক্ষার তারিখ পিছিয়ে যৌক্তিক সময়ে নেয়া হোক।’

শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে ঢাকা-রাজশাহী রেললাইনে চলাচলকারী সব ধরনের ট্রেন বন্ধ ছিল।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘রেলপথ অবরোধের ফলে রাজশাহী থেকে ঢাকা অভিমুখী পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনটি রাজশাহী স্টেশনে আটকা পড়ে।’