কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও সমন্বয়কারীদের ওপর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ ঘটনায় ছাত্রীসহ ১০ জন আহত হয়েছেন ।  

সোমবার (২৯ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে আন্দোলনের সমন্বয়কারীরা বৈঠকের জন্য একত্রিত হলে এ হামলা হয়।

হামলায় আহতরা হলেন- বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সুজয় শুভ (৬ষ্ঠ ব্যাচ), মাহমুদুল হাসান সজীব (৯ম ব্যাচ), সুজন মাহমুদ (৮ম ব্যাচ), সিরাজুল ইসলাম (১১ ব্যাচ), ভূমিকা সরকার (৯ম ব্যাচ), সেঁজুতি (১১ ব্যাচ), সিফাত আহমেদ (৭ম ব্যাচ), জুবায়ের মাহমুদ (৮ম ব্যাচ), শর্মিলা জামান ও মছা। আহত ১০ জনই শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। 

আহত সমন্বয়কারী সুজয় সুভ বলেন, গত পরশু দিন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করে। কতিপয় মিডিয়া এ সংবাদ সম্মেলনের তথ্যকে বিকৃতরূপে প্রকাশ করে সারা দেশসহ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলে। এ ব্যাপারে পরবর্তীতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য আমরা সমন্বয়কারীরা ভার্সিটির গ্রাউন্ড ফ্লোরে মিটিংয়ে বসেছিলাম। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা একে আরাফাত ও আবিদ হাসানের নেতৃত্বে ২০-৩০ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী লাঠি, রড ও পাইপ নিয়ে হামলা চালায়। 

তিনি বলেন, হামলার সময় ছাত্রলীগের মাহমুদুল হাসান তমাল, আল সামাদ শান্ত, খালেদ হাসান, শাহরিয়ার সান, সাব্বির, জাইফ, সাইফকে আমরা শনাক্ত করতে পেরেছি। হামলার পর ক্যাম্পাস থেকে চলে যাওয়ার সময় দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। আমাদের মিটিংকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাব ক্যাম্পাসের সামনে অবস্থান নেয়। তাদের সামনেই আমাদের বেধড়ক মারধর করে ছাত্রলীগ।

হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা দাবিদার আবিদ হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে ১৮-২০ জন মিটিং করছিল এবং তাদের মূল প্রতিপাদ্য কোটা সংস্কার না হয়ে ছিল দেশ সংস্কার। তারা সরকার প্রধানকে নিয়েও উসকানিমূলক স্লোগান দিচ্ছিল। এ সময় ক্যাম্পাসের সামনে থাকা আমাদের কিছু ভাইদের গালাগালি করা হচ্ছিল। এসবের প্রতিবাদ করতে আমরা সেখানে যাই। তখন প্রথমে তারা হামলা করে আমাদের ৪ শিক্ষার্থীকে আহত করে, যারা বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি। আত্মরক্ষার্থে আমরা পাল্টা হামলা চালাতে বাধ্য হই।

বরিশাল নগর পুলিশের বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহমান মুকুল বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের মিটিং শেষ দিকে ছিল। তখন কোটা সংস্কার নিয়ে সরকারের প্রজ্ঞাপনকে সমর্থন জানানো কিছু শিক্ষার্থী গেট দিয়ে প্রবেশ করে। তখন কোটা সংস্কার আন্দোলনের শিক্ষার্থী ও অন্য এক গ্রুপের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। তারা ছাত্রলীগ কিনা তা বলতে পারব না, তবে তারাও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

এদিকে সার্বিক বিষয়ে ববি প্রক্টর ড. আব্দুল কাইয়ুমকে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।