ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে টানা তিনদিনের বৃষ্টিপাতে চট্টগ্রাম কৃষি অঞ্চলের পাঁচ জেলায় ৮ হাজার ৫৩৩ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। আর্থিক হিসাবে এ ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬০ কোটি টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের প্রায় ৭২ শতাংশই গ্রীষ্মকালীন সবজি। চট্টগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ক্ষয়ক্ষতিসংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলায় ২৬-২৮ মে তিনদিনের ঝড়ো হাওয়া ও টানা বৃষ্টিপাতে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের পরিমাণ ১ হাজার ৪০ দশমিক ৪ হেক্টর। এর মধ্যে আউশের বীজতলা ৮১৮ হেক্টর, আউশ খেত ৩ হাজার ৩১৯, গ্রীষ্মকালীন সবজি ৪ হাজার ২৪, তিল ১০ এবং ৩৩০ হেক্টর পানবরজ রয়েছে। সব মিলিয়ে ৪২ হাজার ৭৩৬ জন কৃষক অর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এছাড়া ১০ হাজার ৫১২ টন গ্রীষ্মকালন সবজি, ২ হাজার ৫২ টন আউশ, ২ টন তিল ও ২৮২ টন পানবরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জেলায় শুধু ২১০ হেক্টর জমির গ্রীষ্মকালীন সবজি জাতীয় ফসলের আংশিক ক্ষতি হলেও আর্থিক ক্ষতি হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কক্সবাজার জেলায় ১৭৫ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজি, দুই হেক্টর আউশের বীজতলা ও ৫৫ হেক্টর পানবরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলায় ৫০৩ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এছাড়া নোয়াখালীতে ৭৩০ হেক্টর আউশের বীজতলা, ২ হাজার ৪৬০ হেক্টর আউশ আবাদ, ২ হাজার ৬২০ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজি ও পাঁচ হেক্টর তিলের আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জেলায় ২২ হাজার ৯৮০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

ফেনীতে ২৬ হেক্টর জমির তিল, গ্রীষ্মকালীন সবজি ও মুগডাল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আর্থিক কোনো ক্ষতি হয়নি। লক্ষ্মীপুরে ৮৬ হেক্টর আউশের বীজতলা, ৮৫০ হেক্টর আউশ আবাদ, এক হাজার হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজি, পাঁচ হেক্টর মুগডাল ও ২৭৫ হেক্টর পানবরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলায় ১৯ হাজার ২৫৩ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক নাছির উদ্দীন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘২৬-২৮ মে পর্যন্ত তিনদিনের ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টিপাতে ৮ হাজার ৫৩৩ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। আমরা চূড়ান্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। বোরো ধান কৃষক কেটে নেয়ায় বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হয়নি।’