সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বহালের দাবিতে ফরিদপুরে আবারো মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে সর্বদলীয় ঐক্য পরিষদ। গতকাল বিকালে ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে নতুন এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান সিদ্দিক মিয়া।
এর আগে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চারদিনের মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। নতুন কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ সকাল থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত তিনদিন পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-খুলনা ও ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের আটটি পয়েন্টে অবরোধ করা হবে। তবে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, সংবাদ কর্মীদের গাড়ি, কাঁচামালসহ পচনশীল পণ্যের গাড়ি অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে। মঙ্গলবার পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান মো. মনিরুজ্জামান সিদ্দিক মিয়া।
তিনি বলেন, ‘ইউনিয়ন দুটিকে ফরিদপুর-৪ আসনের অন্তর্ভুক্ত করে নতুন গেজেট প্রকাশ না করা পর্যন্ত আন্দোলন কর্মসূচি চলবে।’
আলগী, হামিরদী ইউনিয়ন ও ভাঙ্গা উপজেলা সর্বদলীয় ঐক্য পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান মুন্সী, উপজেলা জামায়াতের আমির সরোয়ার হোসেন, ঘারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনসুর আহমেদ।
বক্তারা বলেন, কোনো ধরনের উচ্ছৃঙ্খলতা নয়, শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে আমাদের দাবি আদায় করতে চাই। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ভাঙ্গা উপজেলার মানুষ ঘরে ফিরে যাবে না। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে যাত্রা করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের গেজেটে ফরিদপুরের দুটি সংসদীয় আসনের সীমানা পরিবর্তন করা হয়। এর মধ্যে ফরিদপুর-৪ আসনের (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) ভাঙ্গা থেকে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়ন বাদ দিয়ে ফরিদপুর-২ আসনের (নগরকান্দা ও সালথা) সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের পর থেকেই ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করে।
৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে ভাঙ্গা গোলচত্বর ও আশপাশের কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে ১০টি স্থান অবরোধ করে রাখে। এতে রাজধানী থেকে পদ্মা সেতু হয়ে দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অন্তত ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয় যানজট। আটকা পড়ে শত শত গাড়ি। ১০ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে চতুর্থ দিনের মতো সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়।










