মিয়ানমারে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দুই হাজার ৭১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন তিন হাজারের বেশি মানুষ, আর নিখোঁজ রয়েছেন ৪৪১ জন। দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধান মিন অং হ্লাইং আজ মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) এক টেলিভিশন ভাষণে এ তথ্য জানান। খবর রয়টার্সের।

দেশটির সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কাজ করা উদ্ধারকারী সংগঠনগুলো জানিয়েছে, ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের শিকার এ সব এলাকায় জরুরিভিত্তিতে আশ্রয়, খাদ্য এবং পানির প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। গৃহযুদ্ধের কারণে অভাবীদের কাছে সাহায্য পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় অফিস জানিয়েছে, মিয়ানমারের মান্দালয় এলাকায় একটি প্রাক-বিদ্যালয় ধসে ৫০ জন শিশু এবং দুই শিক্ষক নিহত হয়েছে।

জাতিসংঘের সংস্থাটি একটি প্রতিবেদনে বলেছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পরিষ্কার পানি এবং স্যানিটেশনের মতো মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য লড়াই করছে মানুষ। উদ্ধারকারী দলগুলো বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে এবং সহায়তা প্রদানের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক উদ্ধার কমিটি (আইআরসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি মান্দালয়ের মতো জায়গায় আশ্রয়, খাবার, পানি এবং চিকিৎসা সহায়তার প্রয়োজন।

মান্দালয়ের একজন আইআরসি কর্মী জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের আতঙ্কের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকার পর মানুষ এখন আফটারশককে ভয় পায়। অনেকে বাড়ি ছেড়ে রাস্তা বা খোলা আকাশের নিচে ঘুমাচ্ছে।

ভূমিকম্পের প্রভাবে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ধসে পড়েছে ৩৩ তলার ভবন। সেখানে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে উদ্ধারকারীরা এখনো প্রাণের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সেখানে কারো বেঁচে থাকার সম্ভাবনা একদম কমে এসেছে। এখন পর্যন্ত ওই ভবনে ২০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।