একাদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে ১১৪ প্রার্থীর মধ্যে ৯২ জনই জামানত
হারিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ২৩ জন দ্বাদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনে আবারো প্রার্থী হয়েছেন। যাচাই-বাছাইয়ে তাদের মনোনয়নপত্র বৈধতাও পেয়েছে। শুধু একাদশ সংসদ নয়, বিভিন্ন সময় অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনেও জামানত হারানোর রেকর্ড আছে ২৩ জনের মধ্যে
কয়েকজনের। যদিও জামানত বাতিল হলে অন্য কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না—এমন কোনো বাধ্যকতা নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কর্মকর্তারা। জামানত হারানো এসব প্রার্থীর জাতীয় রাজনীতিতে কী ভূমিকা আছে
সে বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মাহফুজ পারভেজ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বাংলাদেশের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা ও অংশগ্রহণে তুলনামূলক অগ্রসর। অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীর পাশাপাশি বহুজন প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। তাদের মধ্যে কেউ জয়ী হন, অনেকেই জামানত হারান। লক্ষণীয়, অতীতে ভালো ফল করেননি, এমন অনেকেই আবার প্রার্থী হয়েছেন। সম্ভবত তারা বারবার পরাজয়ের বিষয়টি সামনে এনে ভোটারদের সহানুভূতি অর্জনের চেষ্টা করবেন। তারা যদি জয়ের আশায় কর্মী-সমর্থকদের উজ্জীবিত করতে সফল হন, তাহলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে। সব প্রার্থী সক্রিয় হয়ে ভোটারদের প্রণোদিত করতে সক্ষম হলে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে।’
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের ফল এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা প্রার্থীদের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে ২০ প্রার্থী আছেন যারা ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামানত হারিয়েছেন। আবার অনেক প্রার্থী আছেন, যারা উপনির্বাচনেও জামানত হারিয়েছেন। সব মিলিয়ে ২৩ প্রার্থী যারা বিগত জাতীয় নির্বাচনগুলোয় জামানত হারালেও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
একাদশ জাতীয় নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম-১ আসনে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী ভোট পান ২২৮টি। ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের আবদুল মান্নান পান ২ হাজার ৮৮৩ ভোট। জামানত হারালেও এবারো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তারা। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৩ আসনে জামানত হারান নারায়ণ রক্ষিত। তিনি এবার চট্টগ্রাম-১১ আসনে প্রার্থী হয়েছেন। চট্টগ্রাম-১১ আসনে জামানত হারানো জসিম উদ্দিন ও চট্টগ্রাম-৩ আসনে এমএ সালাম এবং নুরুল আক্তার আবারো প্রার্থী হয়েছেন। অন্যদিকে ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৩ আসনে মো. গোলাম ইসহাক খান এবং চট্টগ্রাম-১২ আসনে এমএ মতিন ও মৌলভি রশিদুল হকের জামানত বাতিল হলেও আবারো প্রার্থী হয়েছেন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে।










