বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সাংগঠনিক কাঠামো ও নিয়োগবিধি হালনাগাদের উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বিবিএসের কর্মকর্তাদের ক্যারিয়ার উন্নয়ন, পেশাদারত্ব বৃদ্ধি এবং সরকারি পরিসংখ্যানের প্রতি জনগণের আস্থা জোরদারে এসব সংস্কার প্রয়োজন।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় আজ তিনি এ নির্দেশনা দেন। সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকী, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার, বিবিএসের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. মীর হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং বিবিএসের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি তথ্য প্রকাশে স্বাধীনতা ও পেশাদারত্ব নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সরকারি উপাত্তের ওপর জনগণের আস্থা আরো বৃদ্ধি পায়। তিনি সরকারি নীতি-নির্ধারণে সরকারি পরিসংখ্যানের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান এবং পরিসংখ্যান একাডেমি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশ দেন।
মতবিনিময় সভা শেষে মন্ত্রী রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিবিএসের প্রধান কার্যালয়ে স্থাপিত মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণ ল্যাব উদ্বোধন করেন।
বিবিএস জানায়, এটি একটি নিরাপদ অনসাইট গবেষণা সুবিধা, যেখানে অনুমোদিত শিক্ষার্থী, গবেষক, অর্থনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক ও অন্যান্য ব্যবহারকারী জাতীয় শুমারি ও জরিপের নাম-পরিচয়বিহীন মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণের সুযোগ পাবেন। গবেষণা, থিসিস, নীতি বিশ্লেষণ, কর্মসূচি মূল্যায়ন এবং প্রমাণভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নে ল্যাবটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হলো নির্ভরযোগ্য তথ্য। নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের গভীরতর বিশ্লেষণের সুযোগ সৃষ্টি করবে এ ল্যাব।
এসময় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকী বলেন, এই ল্যাব শিক্ষার্থী, গবেষক, অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে এবং জাতীয় তথ্যের ব্যবহারকে আরো কার্যকর করবে।
পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার বলেন, মাইক্রোডাটায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি উত্তরদাতাদের গোপনীয়তা সমানভাবে রক্ষা করা হবে। তার মতে, বিবিএসের এ ল্যাব নিরাপদ তথ্য ব্যবহার, দায়িত্বশীল গবেষণা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির একটি কার্যকর মডেল হিসেবে কাজ করবে।










