জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম নাহিদ বলেছেন, ‘যারা আবার নতুন করে আধিপত্যবাদী রাজনীতির পক্ষ নিচ্ছে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াব। জনগণও তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।’

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত এনসিপির পদযাত্রা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের কথা পরিষ্কার—আমরা মাথা উঁচু করে বাঁচতে চাই, স্বাধীন মর্যাদার বাংলাদেশ গড়তে চাই।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, কিন্তু বহু নীতিনির্ধারণে আমরা আজও পরোক্ষভাবে ভারতীয় আধিপত্যে নির্ভরশীল। যারা সেই আধিপত্যবাদের পক্ষ নেয়, তারা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে।’

তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, ‘যদি কোনো রাজনৈতিক দল বা পক্ষ ভবিষ্যতে সেই আধিপত্যবাদের গোলাম হয়, তাহলে এনসিপি দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।’

আবরার ফাহাদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আবরার ফাহাদরা যেরকম বাংলাদেশ দেখতে চেয়েছিলেন, আমরা সেই বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে আছি, আমরা আবরার ফাহাদের উত্তরসূরি। আবরার ফাহাদ ছিলেন আমাদের প্রতিরোধের প্রথম প্রতীক।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই কুষ্টিয়ার সন্তান শহীদ আবরার ফাহাদ ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম শুরু করেছিলেন, আজ তা সারা দেশে ছড়িয়ে গেছে। আমরা সেই পথেই হাঁটছি—গোলামি নয়, আমাদের লক্ষ্য আজাদী।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আবরার ফাহাদের মতোই শহীদ ইয়ামিন ও আবু সাঈদ মুগ্ধরা দেখিয়েছেন, কোন বাংলাদেশ আমরা চাই। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্যই এ পদযাত্রা।’

‘জনতার অধিকার প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কার ও নতুন সংবিধানের দাবিতে’ এনসিপি দেশব্যাপী ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করছে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই নেতারা কুষ্টিয়ার বিভিন্ন উপজেলা ও শহরে পথসভা এবং পদযাত্রায় অংশ নিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, ১ জুলাই রংপুর থেকে শুরু হওয়া এই ‘জুলাই পদযাত্রা’ দেশের বিভিন্ন শহর ও জনপদ অতিক্রম করে মেহেরপুরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

এর আগে সকালে কুষ্টিয়া শহরের দিশা টাওয়ারে ‘জুলাই আন্দোলনে’ নিহত ও আহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা।

পরে দুপুর ১টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামের গোরস্থানে পৌঁছান তারা। সেখানে শহীদ আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ ও মা রোকেয়া খাতুনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন নেতারা।

জিয়ারতের সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়কারী নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, কেন্দ্রীয় নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম, ডাক্তার তাসনিম জারা, আবরার ফাহাদের বাবা-মা এবং এনসিপির অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

প্রাথমিকভাবে সকাল ৯টায় কর্মসূচি শুরুর কথা থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কিছুটা দেরি হয়। তবে দুপুরের পর শত শত মানুষ বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে এই পদযাত্রায় অংশ নেন। কুষ্টিয়া শহরের বড় বাজার থেকে পদযাত্রা শুরু হয়ে শহরের ৫ রাস্তার মোড়ে এসে এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় মিলিত হন তারা।

পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন বলেন, ‘আবরারের মৃত্যু শুধুই একটি হত্যাকাণ্ড ছিল না, এটি ছিল একটি রাজনৈতিক মোড় পরিবর্তনের সূচনা।’