সংগঠনটির সভাপতি মোশারফ হোসেন চৌধুরী জানান, মধ্যস্বত্বভোগী ও মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নেয়ার কারণে প্রান্তিক খামারিদের সরাসরি বাজারের সঙ্গে সংযোগ তৈরি হচ্ছে না। এতে দিন দিন তাদের লোকসানের পাল্লা ভারী হচ্ছে।
গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ মোশারফ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘একটি ডিম উৎপাদন করতে খামারির খরচ হচ্ছে ১০ টাকা ৩৮ পয়সা। কিন্তু তারা প্রতিটি ডিম বিক্রি করছেন ৬ টাকা ৩৮ থেকে ৬ টাকা ৪০ পয়সায়। এতে মাসে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে খামারিদের।’
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘দেশের হাজার হাজার ডিম উৎপাদনকারী খামারি দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে ডিম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রতিদিন তারা লোকসান গুনছেন, ক্রমে ঋণগ্রস্ত হচ্ছেন, অনেকেই লোকসানের বোঝা টানতে না পেরে খামার বন্ধ করে দিচ্ছেন। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে দেশের ডিম উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ভবিষ্যতে ভোক্তাদেরও বেশি মূল্য দিতে হবে। বর্তমানে ফিড, বাচ্চা, ওষুধ, ভ্যাকসিন, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পরিবহনসহ প্রতিটি উৎপাদন উপকরণের দাম বেড়েছে কিন্তু উৎপাদন ব্যয় বাড়ার সঙ্গে খামার পর্যায়ে ডিমের দামের সঙ্গে বাজারদরের কোনো সামঞ্জস্য নেই। ফলে খামারিরা প্রতিনিয়ত লোকসানের বোঝা বহন করছেন। এ চলমান সংকট থেকে উত্তরণে সরকার, বেসরকারি খাত এবং খামারিদের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।’
তিনি আরো বলেন, ‘উদ্বেগজনক বাস্তবতা হলো ২০২০ সালের আগে বাংলাদেশে পোলট্রি খামারির সংখ্যা ছিল প্রায় দুই লাখ। কিন্তু গত পাঁচ বছরে ধারাবাহিক লোকসান, উৎপাদন খরচ বাড়া, বাজারদরের অস্থিতিশীলতা, সহজ শর্তে অর্থায়নের অভাব এবং বিভিন্ন ধরনের কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের কারণে এ সংখ্যা বর্তমানে কমে প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজারে নেমে এসেছে। অর্থাৎ মাত্র পাঁচ বছরে প্রায় ৬৪ হাজার খামারি এ খাত থেকে ঝরে পড়েছেন। এ ঝরে পড়ার প্রবণতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে আরো বিপুলসংখ্যক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারি পোলট্রি উৎপাদন থেকে সরে যেতে বাধ্য হবেন, যা দেশের খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা, গ্রামীণ কর্মসংস্থান এবং পোলট্রি শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।’








