গতকাল সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে ‘আইনগত ব্যবস্থা’ নেয়ার কথা বলেছেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘বিদেশে অবস্থানরত শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট কোনো বক্তব্য দিলে সেটি গণমাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে প্রচার করা হলে তা আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘনের শামিল হবে। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব।’
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা জানিয়েছেন, আগস্টের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে যাচ্ছে। তার ভাষ্য মতে, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই দেশের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সব শ্রমিকের জন্য মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অতীতে শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে যেসব অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ ছিল, সেগুলোর সমাধান করেই সরকার এবার কর্মী পাঠাতে চায়।
তিনি বলেন, ‘আগস্টের শেষ সপ্তাহে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলছে। এ বিষয়ে এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন বিস্তারিত জানিয়েছেন। আমি আবারো জানিয়ে রাখতে চাই, দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই দেশের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সব শ্রমিকের জন্য মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খবর।’
দেশে চলমান গ্যাস সরবরাহ সংকটের কারণে সৃষ্ট বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিং পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ড. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক হলে গ্যাস সরবরাহ বাড়বে। এর ফলে গ্যাস ও বিদ্যুৎ-উভয় সংকটই ধাপে ধাপে কমে আসবে।’
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। তবে দীর্ঘদিন ধরেই সেই পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। দেশীয় উৎপাদনের ঘাটতি মেটাতে এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। বিদেশ থেকে আনা এলএনজি টার্মিনালে পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়।’
আগামী মাসে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন বাংলাদেশ যোগ দেবে কিনা এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, ‘সরকার এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।’
ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বহু দেশ ও পক্ষ যুক্ত রয়েছে—এমন বহুপক্ষীয় প্লাটফর্মের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো বাংলাদেশের সাধারণ নীতির অংশ। বর্তমান সরকারও এ নীতি অনুসরণ করবে।
তবে কোনো জোট বা কাঠামোয় আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেয়ার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও কৌশলগত বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করতে হয়। সব দিক পর্যালোচনার পর সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। সিদ্ধান্তটি এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছায়নি বলেও জানান তিনি।
দুবাইয়ে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের জামিনের বিষয়টি বাংলাদেশ দেরিতে জানা নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি ব্যাপারটি নিশ্চিত নই। আমি খোঁজ নিতে পারি। কেন দেরি হলো, এটা “ভ্যালিড পয়েন্ট”। জানার চেষ্টা করব।’










