বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গতকাল ভোরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বণিক বার্তাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘হঠাৎ করে গভীর রাতে বুকে ব্যথা ওঠায় খালেদা জিয়ার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাকে হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। সে অনুযায়ী হাসপাতালে নেয়া হয়। ডায়াবেটিসের সমস্যাও রয়েছে। যার ফলে বুকে ব্যথা তীব্র হয়ে যায়। হাসপাতালে এখন ওনার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।’

এদিকে খালেদা জিয়ার ‘জীবন হুমকির মুখে’ বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘ভোরের দিকে হঠাৎ করে উনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওনার অনেক অসুখ আছে, যা আমরা বারবার জাতির কাছে তুলে ধরেছি। কিন্তু সরকার কোনো কেয়ার করেনি। ওনার জীবন ‍হুমকির মুখে। এখন এটা জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে যে, দেশনেত্রীকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। ওনার প্রতি অন্যায় করা হচ্ছে, চরম অন্যায়। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এভাবে আটকে রেখে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।’

গতকাল এভারকেয়ার হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপারসনকে দেখে আসার পর গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে বিএনপি মহাসচিব এ কথা জানান।

৭৯ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনি, আর্থরাইটিস, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন। খালেদা জিয়া প্রতিহিংসার শিকার দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে তিনি হাসপাতালে এসেছেন। হঠাৎ হঠাৎ করে আসতে হচ্ছে। আপনারা দেখেছেন যে, কয়েকদিন আগেও তাকে হাসপাতালে আসতে হয়েছে। ক্রমাগত অত্যন্ত জটিল অসুখগুলো তাকে আক্রমণ করেছে। সেক্ষেত্রে আমরা বারবার বলেছি যে, তার চিকিৎসাটা দরকার বিদেশে মাল্টি ডিসিপ্লিনারি চিকিৎসা কেন্দ্রে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে, তারা (সরকার) প্রতিহিংসার কারণে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিচ্ছে না।’

এর আগে ২২ জুন রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। পরদিনই তার হৃৎপিণ্ডে সফলভাবে পেসমেকার বসানো হয়। ২ জুলাই এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে গুলশানের বাসায় ফেরেন বিএনপি চেয়ারপারসন। 

এর আগে গত বছর অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তিনজন লিভার বিশেষজ্ঞ এনে তার লিভারে অস্ত্রোপচার করা হয়।