আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে দেশের ৬৭টি নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের প্ল্যাটফরম 'সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি'র উদ্যোগে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো সমাবেশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র‍্যালি। শনিবার (৮ মার্চ) সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসব কর্মসূচি পালিত হয়।

অনুষ্ঠানে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন 'নিজেরা করি'-এর সমন্বয়ক খুশী কবীর, মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, নারী প্রগতি সংঘের পরিচালক শাহনাজ সুমি, জাতীয় নারী শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক সাহিদা পারভীন শিখা, শক্তি ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক নিলুফা বেগম এবং আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের সমন্বয়কারী ফাল্গুনী ত্রিপুরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিবাদী সংঙ্গীত পরিবেশন করেন সানোয়ারা জাহান নীতু। নৃত্য পরিবেশন করেন মুক্তা ঠাকুর ও তার দল। আর সঞ্চালনা করেন উই ক্যান অ্যালায়েন্সের জাতীয় সমন্বয়ক জিনাত আরা হক।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারীর প্রতি ক্রমাগত চলমান এই দু:সময় আমরা কাটাবোই। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তির পথে হাঁটবো। তিনি সরকারের প্রতি যেকোনো মূল্যে আইন শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানিয়ে বলেন, সম-সুযোগ আদায় করে নিতে হবে, সম-মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য সিডও সনদের সংরক্ষিত দুইটি ধারার ওপর সংরক্ষণ প্রত্যাহার করতে হবে এবং বাল্যবিয়ে বন্ধসহ সম্পদে নারীর সমঅধিকার প্রদান করতে হবে।

খুশী কবীর বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে জন-পরিসরে, বাসে নারীরা যৌন সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। এ সব ঘটনায় অপরাধীরা প্রশ্রয় পেয়ে যাচ্ছে, প্রতিবাদের পরও কোনো পদক্ষেপ নেই। তিনি নারীর প্রতি সহিংসতা দূর করতে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ ও প্রতিবাদ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

মালেকা বানু বলেন, এদেশের আদিবাসী- সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী সহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নারীরা নানাভাবে বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে একটি বিশেষ গোষ্ঠী নারীর মর্যাদা ও অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করতে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি নারীর অর্জনকে ধরে রাখতে নারী-বিদ্বেষী শক্তিকে প্রতিহত করার পাশাপাশি সবাইকে সোচ্চার হতে ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

শাহনাজ সুমি বলেন, নারী আজ কোথাও নিরাপদ না। নারীসহ সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানান তিনি। আর সাহিদা পারভীন শিখা নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় অভিযুক্তদের আইনি প্রক্রিয়ায় শাস্তির ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি জানান।

নিলুফা বেগম বলেন, আজ ঘরে-বাইরে নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। বর্তমানে নারী নির্যাতনকারী ছাড়া পেলে তাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করা হয়, এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। এ অবস্থায় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সকল সংগঠনকে নারী আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

ফাল্গুনী ত্রিপুরা বলেন, শুধু আদিবাসী নারী নয়, যেকোনো নারী সহিংসতার শিকার হলে তার বর্ণ-গোষ্ঠী-শ্রেণি বিবেচনা না করে প্রতিকারের জন্য সবাইকে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য আহ্বান জানান।

সমাবেশ শেষে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির পক্ষে ১৪ দফা দাবি সম্বলিত ঘোষণা পাঠ করেন কর্মজীবী নারীর কাজী গুলশান আরা দীপা। সমাবেশ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে প্রেস ক্লাব পর্যন্ত একটি প্রতিবাদী র‍্যালি বের হয়।