জ্বালানি সংকট, ব্যাংকিং জটিলতা এবং বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার প্রভাবে দেশের টেক্সটাইল ও পোশাক খাত বর্তমানে গভীর চাপে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। তিনি বলেন, এসব কারণে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মোট উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ ব্যবহার করতে পারছে এবং রফতানি ধারাবাহিকভাবে কমছে।

রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। আসন্ন বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল, নিটিং অ্যান্ড গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি এক্সিবিশন (বিটিকেজি এক্সপো-২০২৬) উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। আগামী বুধবার (২৯ এপ্রিল) ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) চারদিনব্যাপী এ মেলা শুরু হয়ে চলবে ২ মে পর্যন্ত।

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বর্তমানে জ্বালানি সংকট আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শিল্পাঞ্চলগুলোয় প্রতিদিন দীর্ঘ সময় লোডশেডিং হচ্ছে, এতে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে শিপমেন্টের সময়সীমা মিস হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইউরোপের মতো প্রধান বাজারগুলোয় ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় পোশাকের চাহিদা কমেছে। পাশাপাশি শিপমেন্টে দেরির আশঙ্কায় বায়াররা বাংলাদেশে অর্ডার কমিয়ে দিয়েছে, যা আগের তুলনায় অনেক কম।

ব্যাংকিং খাতের সমস্যার দিক তুলে ধরে বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় এলসি লিমিট কমে গেছে। ফলে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানি করা যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংক এলসি দিতে দেরি করছে বা ডকুমেন্ট পারচেস করছে না, যার কারণে শিপমেন্ট বিলম্বিত হচ্ছে এবং অর্ডার বাতিল হচ্ছে।

কাস্টমস ও কর ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছোটখাটো কারণে পণ্য আটকে দেয়ায় আমদানি-রফতানি ব্যাহত হচ্ছে। আবার গ্রিন এনার্জিতে বিনিয়োগে উৎসাহ দেয়ার পরিবর্তে বিভিন্ন যন্ত্রাংশে উচ্চ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এমনকি লোকসান হলেও মোট বিক্রির ওপর কর দিতে হচ্ছে, যা ব্যবসাবান্ধব নয়।

তবে সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রযুক্তি অভিযোজনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ব্যবসায় উত্থান-পতন থাকবেই। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পারলে আমরা বাজার হারাব। বর্তমানে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে দ্রুত পরিবর্তন আসছে এবং ‘সার্কুলারিটি’ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই উদ্যোক্তাদের নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করা জরুরি।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যেও এ ধরনের আন্তর্জাতিক মেলার আয়োজন উদ্যোক্তাদের উদ্বুদ্ধ করবে এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করবে।

আয়োজকরা জানান, এবারের মেলায় প্রায় ১ হাজার ৮০০টি বুথে ৮০০টিরও বেশি দেশী-বিদেশী প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। টেক্সটাইল খাতের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্রপাতি ও মেশিনারির প্রদর্শনী এতে স্থান পাবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। আর সমাপনী অনুষ্ঠানে (২ মে) প্রধান অতিথি থাকবেন , পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আব্দুল আওয়াল মিন্টু।