আহত অন্তত আটজন। মারা যাওয়া ব্যক্তিরা বাংলাদেশের নাগরিক বলে জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ। একই তথ্য দিয়েছে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস।
তবে অগ্নিকাণ্ডে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশের নাগরিক বলে বণিক বার্তাকে নিশ্চিত করেছে কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন। তারা হলেন কুষ্টিয়া জেলার বাসিন্দা দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তিন বছরের শিশুপুত্র শর্ণশীষ দত্ত (৩) ও শ্বশুর মুহাম্মদ আকরাম হোসেন (৬০)। পরিচয় পাওয়া আরেক ব্যক্তি ঢাকার সাভারের বাসিন্দা আহম্মেদ বাবু (৩৭)।
কলকাতা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলেছেন, কলকাতার ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরের একেবারে পাশেই মির্জা গালিব স্ট্রিটে হোটেলটির অবস্থান। পাঁচতলা এ হোটেল ভবনের প্রতিটি তলায় রয়েছে বিভিন্ন হোটেল, বিভিন্ন নামে। হতাহত ব্যক্তিরা তিনতলার হোটেল শিখা ইনে উঠেছিলেন। বেশির ভাগই বাংলাদেশের নাগরিক। চিকিৎসার জন্য তারা কলকাতায় গিয়েছিলেন।
শিখা ইন হোটেলে রাত ২টার দিকে আগুন লাগে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবর অনুযায়ী, হোটেলের চারতলায় আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। ওই খবরে বলা হচ্ছে, এয়ার কন্ডিশনিং বিস্ফোরণের কারণে আগুনের শুরু হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনের খবর পেয়ে শুরুতে কয়েকজন দমকল কর্মী উদ্ধারকাজে আসেন, এরপর স্থানীয় একটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলও তাদের সঙ্গে উদ্ধারকাজে যোগ দেয়।
কলকাতা পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগুনের খবর পাওয়ার পর হোটেল প্রাঙ্গণ থেকে ৬০ জনকে উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে নয়জন অচেতন অবস্থায় ছিলেন, যাদের মধ্যে দুজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
কলকাতায় বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে অন্তত সাতজন বাংলাদেশী বলে তারা জানতে পেরেছেন, যদিও পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। প্রাথমিকভাবে হোটেল মালিক সমিতি জানিয়েছিল, নিহতদের সবাই বাংলাদেশী।
কুষ্টিয়ার বণিক বার্তা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মৃত দেবাশীষ দত্ত আজকের পত্রিকা ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ছিলেন। এছাড়া তিনি কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত আজকের আলো পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন। ওই ঘটনায় তার স্ত্রী আফসানা শারমীন, ছেলে শর্ণশীষ দত্ত ও শ্বশুর মুহাম্মদ আকরাম হোসেন মারা গেছেন। চিকিৎসার জন্য ১৫ দিন আগে তারা ভারতের কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে গিয়েছিলেন। গতকালই তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার দিলীপ দত্তের ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, দেবাশীষের এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ে মহিমা দত্তকে (৭) রেখে ৩ আগস্ট তিনি স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে ভারতে যান। দুইদিন পর তার শ্বশুরও কলকাতায় যান। প্রথমে তারা কলকাতায় দুইদিন ছিলেন। এরপর স্ত্রী ও ছেলের চিকিৎসার জন্য বেঙ্গালুরুতে যান। গত সোমবার রাত ১১টায় উড়োজাহাজে করে কলকাতায় আসেন তারা। সেখানে হোটেলে উঠেছিলেন।
এদিকে সাভারের বণিক বার্তা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, কলকাতায় আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো ব্যবসায়ী আহম্মেদ বাবু আমিনবাজার ইউনিয়নের বেগুনবাড়ী এলাকার প্রয়াত আদম আলীর ছেলে। তিনি আমিনবাজারের স্থানীয় শাহীন সুপার মার্কেটে প্রসাধন সামগ্রীর দোকান চালাতেন। নিজের দোকানের জন্য প্রসাধন সামগ্রী আনতে গত সোমবার রাতে তিনি কলকাতায় গিয়েছিলেন।
মৃত আহম্মেদ বাবু স্ত্রী গুলশানারা বুবলি ও মেয়ে এলিনা হাসান রোজা (৮) ও ছেলে সোয়াতকে (৫) নিয়ে সাভারেই থাকতেন।










