মেদিনীমণ্ডল গার্লস কলেজ মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার একমাত্র নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে আইসিটি কক্ষসহ চারতলা একটি ভবন রয়েছে। তবে কোনো বছর পাঁচ-ছয়জন, কোনো বছর সর্বোচ্চ ১০-১৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে চলছে কলেজটি। এমপিও-ভুক্ত শিক্ষক নেই। খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ থাকলেও শিক্ষক সংকটে শিক্ষা বিস্তারে পিছিয়ে পড়ছে প্রতিষ্ঠানটি।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, লৌহজংয়ে ১২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রতি বছর এসব বিদ্যালয় থেকে কমপক্ষে ৫০০-৬০০ ছাত্রী এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে বের হয়। তবে তারা সরকারি লৌহজং কলেজ, ইউনুস খান মেমোরিয়াল কলেজ, পার্শ্ববর্তী সরকারি শ্রীনগর কলেজ অথবা ঢাকার কলেজগুলোয় ভর্তি হন। মেদিনীমণ্ডল ইউনিয়নেই তিনটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি বছর ১৫০-২০০ জন ছাত্রী পাস করে বের হয়। তারাও কলেজটিতে ভর্তি হতে চান না। এমনকি কলেজ লাগোয়া আনোয়ার চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পাস ছাত্রীরাও এখানে ভর্তি হতে অনিচ্ছুক। কারণ কলেজটিতে শিক্ষক সংকট রয়েছে। মানবিক শাখা ছাড়া বাকিগুলো বন্ধ।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৩ সালে দক্ষিণ মেদিনীমণ্ডল গ্রামের জলিল হাওলাদার নারী শিক্ষা বিস্তারে এক একর জমি দান করেন। ১৯৯৪ সালের ২১ নভেম্বর সাবেক সংসদ সদস্য উইং কমান্ডার (অব.) এম হামিদুল্লাহ খাঁন বীর প্রতীককে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি করে কলেজের কার্যক্রম শুরু হয়। ঢাকা কলেজের তৎকালীন ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান এমএ রশিদ ছিলেন প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ। তখন ৪০ জন ছাত্রী নিয়ে পাঠদান শুরু হয়। এরপর ১৯৯৭ সালের এপ্রিল থেকে ২০০০ সালের মে পর্যন্ত মো. শাহজাহান মিয়া অধ্যক্ষ ছিলেন। পরে ২০০৫ সালে প্রভাষক রোজিনা আক্তারকে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদ পূর্ণ অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল লতিফ খান জানান, তিনি কলেজটির প্রতিষ্ঠালগ্নে প্রতিষ্ঠাতা হামিদুল্লাহ খান বীর প্রতীকের সঙ্গে মিলে অর্থ সংগ্রহ করেছেন। সে সময় ১৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা সংগ্রহ করেছিলেন। তিনি প্রশ্ন করেন, সে অর্থ কোথায় গেল?

সরজমিনে দেখা গেছে, মূল ফটকে লেখা কলেজের নাম মুছে গেছে। সীমানাপ্রাচীর ঘেরা কলেজটি গাছপালায় ভরা। জনশূন্য প্রতিষ্ঠানটি ভুতুড়ে মনে হয়। মূল প্রবেশদ্বারে ঢুকতেই ডানপাশে ছোট একটি পুকুর রয়েছে।

কলেজের অধ্যক্ষ রোজিনা আক্তার জানান, একমাত্র তিনি স্থায়ী শিক্ষক। চারজন খণ্ডকালীন শিক্ষক, পাঁচজন ছাত্রী ও একজন আয়া নিয়ে চলছে কলেজটির কার্যক্রম। ২০২৪ সালে চারজন এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে একজন পাস করেছে। এতকিছুর পরও প্রতি বছর নির্ধারিত ফি দিয়ে কলেজের ১১টি পাঠ্য বিষয়ে স্বীকৃতি সনদ নবায়ন করা হচ্ছে।

লৌহজং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শরীফ মো. মোর্তজা আহসান বলেন, ‘পরিচালনা কমিটি সক্রিয় হলে কলেজটি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নেছার উদ্দিন জানান, কলেজটি যেহেতু বেসরকারি, এজন্য বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চলবে। তবে পরিচালনায় কোথাও বাধাপ্রাপ্ত হলে সেটি তারা দেখবেন।