চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে ৪৫ লাখ ৪০ হাজার টন ডিজেল রফতানি করেছে চীন, যা গত বছরের তুলনায় ১০ গুণ বেশি। দেশটির সরকারি তথ্যমতে, গত বছর ডিজেল রফতানি করেছিল মাত্র ৪ লাখ ২০ হাজার টন।

ইউরোপের চাহিদা চীনের রফতানি বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা পালন করেছে। কারণ গত ফেব্রুয়ারির শুরুতে রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ফলে বিকল্প সরবরাহকারী খুঁজতে বাধ্য হয়েছিল দেশটি।

বর্তমানে জ্বালানি নিরাপত্তার দাবিতে ফরাসি শোধনাগার ও এলএনজি টার্মিনালগুলোয় ধর্মঘট চলছে। এরই মধ্যে ফ্রান্সের ছয়টি শোধনাগারের মধ্যে চারটির কার্যক্রম বন্ধ বা বন্ধ হতে চলেছে। এদিকে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চলিত মাসে চীন থেকে জ্বালানি সরবরাহ অনেকটাই কমে যাবে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) ও ওপেক উভয়ই বিশ্বব্যাপী তেলের চাহিদা মেটাতে চীনকে বড় অবদানকারী হিসেবে বিবেচনা করছে। সর্বশেষ বাজার পূর্বাভাসে দুটি সংস্থাই জানিয়েছে, চলতি বছর তেলের নতুন চাহিদার বড় অংশ এশিয়ান হটহাউজ থেকে আসবে।

মজার বিষয়, জ্বালানি রফতানি বৃদ্ধি ও অপরিশোধিত তেলের উচ্চ আমদানি সত্ত্বেও চীন অপরিশোধিত তেলের একটি নির্দিষ্ট অংশ আলাদা করতে সক্ষম হয়েছে। বছরের প্রথম দুই মাসে চীনের কৌশলগত ও বাণিজ্যিক উভয় তেলের ইনভেনটরিতে দৈনিক প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল যোগ হয়েছে।

জ্বালানি তেলের পাশাপাশি অন্যান্য খাতের মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে চীন। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতার প্রভাব অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামেও দেখা গেছে। গত দুই মাসে অপরিশোধিত তেলের আমদানি ১ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে দৈনিক ১ কোটি ৪ লাখ ব্যারেলে। মার্চের আমদানি ১ কোটি ১১ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল প্রত্যাশা করা হচ্ছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় মাত্রিকে বাড়বে চীনের অপরিশোধিত তেল আমদানি। সম্প্রতি দেশটি কভিড-পরবর্তী নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিয়েছে। সচল হতে শুরু করেছে অর্থনীতি। 

চীনের জ্বালানি আমদানি খাতে দাম গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক। উচ্চদাম মানেই অপরিশোধিত তেলের আমদানি সূচকে নিম্নমুখিতা। দামের এমন প্রভাব দেখা যায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রেও। ফলে নিম্নমূল্য রাখা হয়েছে ক্রেতাদের বাজারে ফিরিয়ে আনার জন্যই। কেপলারের তথ্যানুযায়ী, চীন মার্চেই ৫৩ লাখ ৯০ হাজার টন এলএনজি আমদানি করতে যাচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে ৪৯ লাখ ৬০ হাজার টন ছিল। অন্যদিকে গত বছরের মার্চে ছিল ৪৭ লাখ ৭০ হাজার টন।

২০২৩ সালের প্রথম দুই মাসে দেশটিতে শিল্প পণ্য উৎপাদন বেড়েছে। গত বছরের এ সময়ের তুলনায় বৃদ্ধির পরিমাণ ২ দশমিক ৪ শতাংশ। খুচরা বিক্রি বেড়েছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। স্থাবর সম্পত্তিতে বিনিয়োগ বেড়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির তথ্য একসঙ্গে প্রকাশ করেছে চীন। পুনরুদ্ধার কিছুটা ব্যাহত হয়েছে জানুয়ারিতে। তবে শিগগিরই গতি পেয়েছে দেশটি।

পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে নির্মাণ স্থাপনায় বিনিয়োগ। গত দুই মাসে ৯ শতাংশ বেড়েছে এ খাতে বিনিয়োগ। যদিও সার্বিকভাবে স্থাবর সম্পত্তিতে বিনিয়োগে এখনো আশানুরূপ পুনরুদ্ধার ঘটেনি। চলতি বছরে স্থাবর সম্পত্তিতে পতন ৫ দশমিক ৭ শতাংশ রয়েছে। ২০২২ সালে এটি ছিল ১০ শতাংশ। ফলে সূচক উন্নতির দিকে।