চলতি বছর দেশটিতে প্রায় ৮০ লাখ মিনি ফ্যান বিক্রি হতে পারে বলে ধারণা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক ফ্যানই নিম্নমানের। ফলে বছর পার হওয়ার আগেই এগুলো নষ্ট হয়ে আবর্জনায় ফেলে দেয়া হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপক ও পুনর্ব্যবহার প্রচারণাকারী সংগঠনগুলো এ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
ব্রিটেনের বাজারে এসব ফ্যানের দাম ২ পাউন্ড থেকে শুরু। সস্তা হওয়ার কারণে অনলাইনে ফ্যান কেনার খোঁজাখুঁজি বা সার্চ অনেক বেড়েছে সম্প্রতি। প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই সার্চের সংখ্যা ২০২৫ সালের পুরো বছরের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
ম্যাটেরিয়াল ফোকাস নামের ক্যাম্পেইন গ্রুপের তথ্যানুযায়ী, জুনের শেষের দিকে গরম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় গুগলে মিনি ফ্যান খোঁজার হার আগের মাসের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। বিদ্যুচ্চালিত পণ্য বিক্রেতারাও জানান, ঘর ঠাণ্ডা রাখার প্রযুক্তির চাহিদা এখন আকাশচুম্বী। অনলাইন-ভিত্তিক খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান জয়বাই জানায়, গত মাসের তাপপ্রবাহের সময় বিদ্যুচ্চালিত ফ্যান বিক্রি আগের সপ্তাহের তুলনায় ২ হাজার ৫০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। চীনা কোম্পানিটি ৫ পাউন্ডেরও কম দামে হ্যান্ডহেল্ড বা হাত-ফ্যান বিক্রি করছে। এমনকি প্রচারের জন্য লন্ডনের বিভিন্ন পরিবহন কেন্দ্রে ছয় হাজার ফ্যান বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে বিখ্যাত চেইন শপ জন লুইস জানায়, তাপপ্রবাহের সময় ১৫ পাউন্ড দামের নেক ফ্যান (ঘাড়ে ঝোলানো পাখা) বিক্রি তিন গুণের বেশি বেড়েছে। ইলেকট্রনিকস খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান কারিজের প্রধান কর্মকর্তা জানান, সবচেয়ে গরমের দিনগুলোয় আগের সপ্তাহের তুলনায় ফ্যান বিক্রি প্রায় ৩ হাজার শতাংশ বেড়েছে। ফলে বাজারে ফ্যানের সংকটও দেখা দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে টানা ১০ দিন যুক্তরাজ্যের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকতে পারে, যা সর্বোচ্চ ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে।
ম্যাটেরিয়াল ফোকাসের নির্বাহী পরিচালক স্কট বাটলার সাধারণ মানুষকে উন্নত মানের পণ্য কেনার পরামর্শ দেন। বিকল্প হিসেবে কাগজের তৈরি পাখা ব্যবহারের কথাও বলেন তিনি। নষ্ট হয়ে যাওয়া ফ্যানগুলো সাধারণ ডাস্টবিনে না ফেলে স্থানীয় রিসাইক্লিং সেন্টারে জমা দেয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
স্কট বলেন, ‘মিনি ফ্যানগুলো হলো “ফাস্ট-টেক” বা দ্রুত নষ্ট হওয়া প্রযুক্তির একটি বড় উদাহরণ। তীব্র গরম থেকে বাঁচতে মানুষ এগুলো দেদারসে কিনছে। কিন্তু কেনার পর পরই অনেকে এগুলো ফেলে দিচ্ছে অথবা ড্রয়ারের কোনায় অবহেলায় পড়ে থাকছে। একটু সচেতন হলে আমরা এমন পণ্য কিনতে পারি, যা দীর্ঘস্থায়ী হবে ও পরিবেশের ক্ষতি করবে না।’"
গ্রুপটির হিসাব অনুযায়ী, গত বছর বিক্রীত মিনি ফ্যানের ৫৫ শতাংশই আবর্জনায় ফেলে দেয়া হয়।
চার্টার্ড ইনস্টিটিউশন অব ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের নীতি ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপক রিচার্ড হাডসন একটি বড় ঝুঁকির কথা জানান। তিনি বলেন, আবর্জনা সংগ্রহের সময় ফ্যানগুলো চাপে ভেঙে যায়। যেহেতু এগুলোয় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি থাকে, তাই সহজেই আগুন ধরে যেতে পারে। এতে পরিচ্ছন্নতা কর্মী, যন্ত্রপাতি ও পরিবেশের বড় ক্ষতি হতে পারে। সস্তা ও নিম্নমানের পণ্যগুলো টেকসই করে তৈরি করা হয় না, যা বিশ্বের সীমিত খনিজ সম্পদেরও অপচয় ঘটাচ্ছে।









