ক্রয়াদেশ কমছে প্রতিনিয়ত। কমে যাচ্ছে চট্টগ্রামের পোশাক কারখানার উৎপাদনও। রানা প্লাজা ও তাজরীন ফ্যাশনের দুর্ঘটনার পর অ্যাকর্ড, অ্যালায়েন্স ও নিরাপত্তা ইস্যুতে বিদেশী বায়ারদের নানা শর্তের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে অনেক ছোট-বড় কারখানা। পরবর্তী সময়ে কভিড-১৯ সংক্রমণ ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সেই সংকটকে আরো প্রকট করেছে। এর মধ্যেও গত আড়াই বছরে চট্টগ্রামে নতুন করে উৎপাদনে এসেছে ৫১টি পোশাক কারখানা। আরো অন্তত ২০টি প্রতিষ্ঠান উৎপাদনে যাওয়ার জন্য কারখানার উন্নয়ন এবং যন্ত্রপাতি সংগ্রহের কাজ করছে। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পোশাক খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের এ অর্থনীতি সংকটের মধ্যে নতুন করে পোশাক কারখানা চালু হাওয়াটা এ শিল্পের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। নতুন কারখানা স্থাপন হলে শ্রমিকের কর্মসংস্থান বেড়ে যাবে। সমৃদ্ধ হবে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি।
বিজিএমইএর তথ্যমতে, চট্টগ্রামে নিবন্ধিত পোশাক কারখানা ছিল প্রায় ৬৮৬টি। রানা প্লাজা ধসের পর জাতীয় ত্রিপক্ষীয় কর্ম পরিকল্পনার (এনটিপিএ) আওতায় অ্যাকর্ড, অ্যালায়েন্স ও জাতীয় উদ্যোগে শুরু হয় পোশাক কারখানা মূল্যায়ন কার্যক্রম। এর প্রভাব পড়ে ক্রয়াদেশে। সেই সঙ্গে নিরাপত্তা ইস্যুসহ নানা কারণে বন্ধ হতে থাকে একের পর এক পোশাক কারখানা। ২০১৮ সালের ৩৬৪টি কারখানা থেকে কমে ২০২০ সালে ৩২৮ ও ২০২১ সালে নেমে আসে প্রায় ৩০০টিতে। চট্টগ্রামে বর্তমানে ৩৫০ পোশাক করখানা চালু আছে। এর মধ্যে ২০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান সরাসরি রফতানির সঙ্গে জড়িত। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে সাব কন্ট্র্যাক্টে।
কভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে পোশাক খাত কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করায় চট্টগ্রামে নতুন করে ব্যবসায় এসেছে অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠান। বিজিএমইএর সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত ৫১টি প্রতিষ্ঠান কারখানা চালুর অনুমোদন নিয়েছে। এর মধ্যে ২০২১ সালে একটি, ২০২২ সালে ৩৬টি এবং চলতি বছর এখন পর্যন্ত অনুমোদন নিয়েছে ১৪টি প্রতিষ্ঠান।
এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি এবং ওয়েল ডিজাইনার্স লিমিটেডের পরিচালক সৈয়দ নজরুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পোশাক খাত ছাড়াও দেশের অন্যান্য শিল্প খাতের উন্নয়নে অবকাঠামো ও বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ, সড়ক ও রেলপথের উন্নয়নসহ যা যা দরকার সেগুলো করা হচ্ছে। গত আড়াই-তিন বছরে চট্টগ্রামে ৫০টির বেশি পোশাক খাতের প্রতিষ্ঠান উৎপাদনে এসেছে। পাশাপাশি পুরনো কারখানাগুলো তাদের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে।’










