অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম এখন অনেকটাই কম বা সহনশীল। তবে এ পরিস্থিতি বেশি দিন বিদ্যমান থাকবে না। জুনে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছতে পারে। এরপর থেকে ১২ মাস পর্যন্ত এ পরিস্থিতি বজায় থাকবে বলে ধারণা করছে গোল্ডম্যান স্যাকস। কারণ হিসেবে উঠে এসেছে চীনের চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়টি। সামনের দিনে দেশটিতে প্রতিদিন ১ কোটি ৬০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেলের প্রয়োজন হবে, যা সরাসরি বৈশ্বিক তেলের বাজারে প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে। খবর অয়েল প্রাইস ডটকম।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ব্যাংকটির হেড অব কমোডিটিজ জেফরি কারি বলেন, জ্বালানি খাত থেকে মূলধনের বহিঃপ্রবাহের ফলে চলতি বছরের শেষ দিকে ঘাটতি দেখা দেবে। সাধারণত যখন অর্থনীতিতে কোনো আঘাত লাগে তখন মূলধন ফেরত পেতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগে। জুনের মধ্যে আমরা আরেকটি ঘাটতির মুখে পড়ব আর এটি তেলের দাম আরো বাড়িয়ে দেবে। 

কেবল জেফরি কারিই নন, ফান্ড ম্যানেজার পিয়েরে অ্যান্ডিউরান্ড বলেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ জ্বালানি তেলের বাজার পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার হবে এবং ব্যারেলপ্রতি দাম ১৪০ ডলারে পৌঁছতে পারে। তবে বর্তমানে তেলের বাজারে যে মন্দা পরিস্থিতি তা আগেই অনুমান করা হয়েছিল এবং এর পেছনেও দায় রয়েছে ব্যাংক খাতের। 

তেলের দামের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে চীন। ২০২৩ সালের প্রথম দুই মাসে চীনের জ্বালানি পণ্য আমদানি কম ছিল। তবে এরপর থেকে চাহিদা বাড়তে থাকায় চলতি বছরের শেষ দিকেই দাম বেড়ে যাবে। এ সময়ের মধ্যে চীন অপরিশোধিত জ্বালানি কেনায় রেকর্ড সৃষ্টি করবে বলেও প্রত্যাশা করা হচ্ছে। যদিও এ বছরের জন্য দশকের সর্বনিম্ন বার্ষিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে চীন।

চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে গড় তেল আমদানির পরিমাণ ছিল গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ কম। চীনে চান্দ্র নববর্ষের ছুটি থাকায় জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে তেল রফতানিতে ছিল ধীরগতি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রথম দুই মাসে চীনে জ্বালানি তেলের চাহিদা তেমন না থাকলেও বছরের বাকি সময়টা এমন যাবে না। দীর্ঘ লকডাউনের বাধা কাটিয়ে ফিরতে শুরু করেছে চীনের অর্থনীতির গতি। ফলে সামনের দিনগুলোয় চীনে বাড়বে চাহিদা। এছাড়া চলতি বছরই কিছু পরিশোধনাগার কাজ শুরু করবে। যার কারণে চীনে তেলের ব্যাপক চাহিদা বাড়বে এবং এর রেশ হিসেবে বাড়বে তেলের দাম।