১৭ ও ১৮ শতকের ইতালীয় কারিগরদের তৈরি কিছু বেহালার দাম বর্তমানে ৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে। বাজারে এসব বাদ্যযন্ত্রের সংখ্যা খুবই সীমিত। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দামও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এসব বেহালায় বিনিয়োগ করে অনেকেই উল্লেখযোগ্য মুনাফা পেয়েছেন।
লন্ডনের রয়্যাল কলেজ অব মিউজিকের বিশেষজ্ঞ ফ্লোরিয়ান লিওনহার্ডের মতে, এসব বেহালার দাম সাধারণত আড়াই লাখ দিরহাম থেকে শুরু করে ১২ কোটি ৫০ লাখ দিরহাম পর্যন্ত হতে পারে। মার্কিন মুদ্রায় যার সর্বোচ্চ মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
তিনি জানান, ১৯৮০-এর দশকে কেনা বিরল স্ট্রাডিভারি বা গুয়ারনেরি বেহালার দাম এখন কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে মূল্য চার গুণ থেকে ১০ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। তবে এসব লেনদেন সাধারণত ব্যক্তিগতভাবে এবং গোপনীয়তার সঙ্গে সম্পন্ন হয়।
ফ্লোরিয়ান লিওনহার্ডে জানান, এসব সাধারণ কোনো বেহালা নয়। বাদ্যযন্ত্রগুলো তৈরি করেছেন ইতালির কিংবদন্তি নির্মাতারা। তাদের মধ্যে আছেন জিওভান্নি গুয়াদানিনি, আন্দ্রেয়া আমাতি, ফ্রান্সেস্কো রুগেরি ও গুয়ারনেরি দেল জেসু। তবে বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে আন্তোনিও স্ট্রাডিভারির তৈরি বেহালার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বেশি দামের অন্যতম কারণ হলো সংকট। বর্তমানে বিশ্বের পরিচিত প্রাচীন বেহালার সংখ্যা এক হাজারেরও কম। নতুন করে এমন বাদ্যযন্ত্র আর তৈরি করা সম্ভব নয়। তাই বাজারে সরবরাহ সীমিত। চাহিদা থাকায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দামও বাড়ছে।
সব বেহালার দাম একইভাবে বাড়ে না। একটি বেহালার নির্মাতার সুনাম, সংরক্ষণের অবস্থা ও কোন সময়ের তৈরি, এসব বিষয় মূল্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই শুধু বিখ্যাত নির্মাতার নাম দেখেই বিনিয়োগ করা ঠিক নয়। ভালো মানের ও সঠিক সময়ের তৈরি বেহালা বেছে নেয়া প্রয়োজন।
আন্তোনিও স্ট্রাডিভারির কাজ নিয়ে ২০২৪ সালে ছয় খণ্ডের একটি গবেষণা প্রকাশ হওয়ার পর বাজারে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা আরো বেড়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। ফলে ক্রেতাদের আস্থাও বেড়েছে।
শুধু মুনাফার আশায় এসব বেহালা কেনা হয় তা নয়। অনেক সংগ্রাহকের কাছে এগুলো শত শত বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও শিল্পকর্ম। একই সঙ্গে বিশ্বের অনেক খ্যাতিমান বেহালাবাদকও এত ব্যয়বহুল বাদ্যযন্ত্র কিনতে পারেন না।
খবর ও ছবি দ্য ন্যাশনাল









