ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহের চার কার্যদিবসে ব্লক মার্কেটে ১৩৮ কোম্পানির মোট ১৫০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 

তথ্যানুসারে, ব্লক মার্কেটে আলোচ্য সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি টাকার শেয়ার লেনদেন হয় হোটেল সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেডের। কোম্পানিটির মোট ১৩ কোটি ৫৭ লাখ ৯০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। 

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির ২৫ লাখ ৫৬ হাজার ৫০০ শেয়ার ১২ কোটি ৯ লাখ ৯০ হাজার টাকায় লেনদেন হয়। তৃতীয় সর্বোচ্চ ১০ কোটি ৮৪ লাখ ২০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসির। 

এছাড়া ব্লক মার্কেটে গ্রামীণফোন লিমিটেডের ১০ কোটি ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেডের ৯ কোটি ৭৭ লাখ ৮০ হাজার টাকার, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ৪ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার, এসকে ট্রিমস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ৪ কোটি ৭০ লাখ ৫০ হাজার, দি একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের ৪ কোটি ৪৭ লাখ ৯০ হাজার, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেডের ৩ কোটি ৯২ লাখ, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ৩ কোটি ৭৬ লাখ ৭০ হাজার ও এমারাল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ৩ কোটি ৫৩ লাখ ৮০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। 

পুঁজিবাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ কমে ৬ হাজার ২৪৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৬ হাজার ২৪৭ পয়েন্টে। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে দশমিক শূন্য ২ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৯৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২ হাজার ৯৪ পয়েন্টে।

শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস দশমিক ১০ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩৬৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৩৬৪ পয়েন্টে। ডিএসইতে গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া মোট ৪০৬টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৭২টির, কমেছে ৯৯টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২০১টির। এছাড়া লেনদেন হয়নি ৩৪টির।

ডিএসইতে গত সপ্তাহের চার কার্যদিবসে ১ হাজার ৫৯৭ কোটি ১২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে লেনদেন ছিল ২ হাজার ১৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক্সচেঞ্জটিতে সাপ্তাহিক লেনদেন কমেছে ২০ দশমিক ৭৯ শতাংশ। গত সপ্তাহে ডিএসইতে দৈনিক গড়ে ৩৯৯ কোটি ৩১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ৫০৪ কোটি ১১ লাখ টাকা।

খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে সাধারণ বীমা খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ১ শতাংশ দখলে নিয়েছে প্রকৌশল খাত। ১২ দশমিক ১ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে মিউচুয়াল ফান্ড খাত। মোট লেনদেনের ১১ শতাংশের ভিত্তিতে চতুর্থ অবস্থানে ছিল ওষুধ খাত। আর খাদ্য খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে ডিএসইর ইতিবাচক রিটার্নের দিক দিয়ে শীর্ষে ছিল সাধারণ বীমা, পাট ও বিবিধ খাত। এ তিন খাতে যথাক্রমে ২ দশমিক ৩, ১ দশমিক ৫ ও ১ শতাংশ রিটার্ন এসেছে। অন্যদিকে নেতিবাচক রিটার্নে শীর্ষে ছিল মিউচুয়াল ফান্ড খাত, কাগজ খাত ও প্রযুক্তি খাত। এ তিন খাতে রিটার্ন কমেছে যথাক্রমে ১ দশমিক ৯, ১ দশমিক ৩ ও ১ শতাংশ।

অন্যদিকে গত সপ্তাহে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ কমে ১৮ হাজার ৫২০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৮ হাজার ৫০৮ পয়েন্টে। সিএসসিএক্স সূচকটি গত সপ্তাহ শেষে দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ কমে ১১ হাজার ৭৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আগের সপ্তাহ শেষে সূচকটির অবস্থান ছিল ১১ হাজার ৬৯ পয়েন্টে। সিএসইতে গত সপ্তাহের চার কার্যদিবসে ৩১ কোটি ১৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৪৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এ সময়ে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৮১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৪৩টির, কমেছে ৮৫টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১৫৩টির।