স্পেন বিশ্বের শীর্ষ অলিভ অয়েল উৎপাদক দেশ। চলতি বছর খরায় দেশটিতে পণ্যটির উৎপাদন বাধার মুখে পড়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রাক্কলন অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার উৎপাদন ব্যাপক কমবে। ফলে পণ্যটির আন্তর্জাতিক বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। খবর রয়টার্স।
বিশ্লেষকরা জানান, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে গত বছরই সূর্সমুখী তেলের তীব্র সংকটে পড়ে বিশ্ব। ফলে চাপের মুখে পড়ে অলিভ অয়েল। হঠাৎ পণ্যটির দাম বেড়ে যায়। এ বছর স্পেনে উৎপাদন কমার আশঙ্কায় বাজারদর আরো এক দফা বাড়তে পারে।
সাধারণত বৈশ্বিক অলিভ অয়েল উৎপাদনের ৪০ শতাংশই আসে স্পেন থেকে। গত বসন্তে যখন অলিভ গাছে ফুল আসতে শুরু করে তখনই দেশটিতে ভয়াবহ দাবদাহ দেখা দেয়। এছাড়া গত গ্রীষ্মের পর থেকেই দেশটিতে মারাত্মক খরা চলছে। অন্যদিকে বিশ্বের দ্বিতীয় ও চতুর্থ শীর্ষ উৎপাদক ইতালি ও পর্তুগালেও বৈরী আবহাওয়ায় অলিভ অয়েলের মজুদ কমছে।
শুধু ইউরোপের তৃতীয় শীর্ষ দেশ গ্রিসে আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় উৎপাদন স্বাভাবিক। আগামী দিনগুলোয় উৎপাদন পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। যদিও এ উৎপাদন স্পেনে সৃষ্ট ঘাটতিতে ভারসাম্য আনতে পারবে না।
স্পেনের ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব এডিবল অয়েল বটলারসের প্রধান প্রিমিটিভো ফার্নান্দেজ অলিভ অয়েল উৎপাদনে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে। একদিকে খরা, তার ওপর অর্থনৈতিক সংকট ও ইউক্রেন যুদ্ধকে এজন্য দুষছেন তিনি।
স্পেনের অলিভ অয়েল রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্কলন অনুযায়ী, গত বিপণন মৌসুমে স্পেনে ৩১ লাখ টন অলিভ অয়েল উৎপাদন হয়েছিল। চলতি বছর সে তুলনায় উৎপাদন ১০ শতাংশ কমতে পারে। খরার পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটলে উৎপাদন পূর্বাভাস আরো কমানো হতে পারে।
শিল্প গ্রুপ ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো জানায়, গত বছর স্পেনে অলিভ অয়েলের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। গত বছর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সূর্যমুখী তেলের সংকট দেখা দিলে অলিভ অয়েলের বাজারে অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করে। তার ওপর ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, ব্যয়বহুল সার বাজার পরিস্থিতিকে আরো জটিল করেছে।









