সম্প্রতি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চিনি উৎপাদনকারী দেশ ভারতের এ সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম আরো বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর রয়টার্স।

ভারত বিশ্বের ২য় বৃহত্তম চিনি রফতানিকারক দেশ। চলতি মৌসুমে দেশটির সরকার চিনি কলগুলোকে ১৫ লাখ ৯০ হাজার টন চিনি রফতানির অনুমতি দিয়েছিল। ধারণা করা হয়েছিল, অভ্যন্তরীণ চাহিদার তুলনায় উৎপাদন অনেক বেশি হবে। কিন্তু সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, টানা দ্বিতীয় বছরের মতো দেশটিতে চিনির উৎপাদন চাহিদার চেয়ে কম হতে পারে। মূলত প্রধান উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোয় আখের ফলন কমে যাওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে।

চিনি রফতানি বন্ধের পেছনে আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবও বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে। বর্তমানে চলমান এল নিনোর প্রভাবে মৌসুমি বায়ু বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদি ঠিকমতো বৃষ্টিপাত না হয়, তবে আগামী মৌসুমে আখের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক নিচে নেমে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের জন্য পর্যাপ্ত চিনি মজুদ রাখতেই সরকার রফতানি বন্ধের কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অনুমোদিত ১৫ লাখ ৯০ হাজার টনের মধ্যে ব্যবসায়ীরা আট লাখ টনের চুক্তি সম্পন্ন করেছেন। এরই মধ্যে ছয় লাখ টনের বেশি চিনি বিদেশে পাঠানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় অপরিশোধিত ও পরিশোধিত উভয় ধরনের চিনি রফতানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে যেসব চিনি এরই মধ্যে বন্দরে পৌঁছেছে বা জাহাজে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, সেগুলো বিশেষ শর্তে রফতানির সুযোগ পাবে।

ভারতের এ ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে চিনির দামে বড় পরিবর্তন এসেছে। নিউইয়র্কে অপরিশোধিত চিনির দাম ২ শতাংশ এবং লন্ডনে সাদা চিনির দাম ৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ভারত বাজার থেকে সরে যাওয়ায় এখন ব্রাজিল ও থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলো এশিয়া ও আফ্রিকায় চিনি সরবরাহের সুযোগ পাবে। তবে বাংলাদেশের মতো আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য চিনির বাড়তি দাম নতুন দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে।