চলতি মৌসুমে চীনে সয়াবিন আমদানি ৯ কোটি ৭০ লাখ টনে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কভিড জিরো নীতি প্রত্যাহার করায় দেশটিতে তৈলবীজ পণ্য আমদানির সম্ভাবনাও বেড়েছে। গ্লোবাল এগ্রিকালচারাল ইনফরমেশন নেটওয়ার্কের প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। খবর ওয়ার্ল্ড গ্রেইন।

জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস চায়নার তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিসেম্বরে সরকার কভিড জিরো নীতি তুলে নেয়ার পর আমদানি বেড়েছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি ১৬ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৬০ লাখ টনে পৌঁছেছে। চীনের প্রত্যাশা, ২০২২-২৩ মৌসুমে ৯ কোটি ৬০ লাখ টন সয়াবিন আমদানি করা হবে।

অন্যদিকে চীন অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে তৈলবীজ উৎপাদনে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে সয়াবিনের ওপর বেশি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ২০২২-২৩ মৌসুমে উল্লেখযোগ্য উৎপাদনও করেছে। জাতিসংঘের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) তথ্যানুযায়ী, ২০২৩-২৪ মৌসুমে উৎপাদন আরো বাড়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, চীনে  ২০২৩-২৪ মৌসুমে ১ কোটি হেক্টর জমিতে সয়াবিন উৎপাদন হবে ১ কোটি ৯৮ লাখ টন। সেক্ষেত্রে ভুট্টার তুলনায় সয়াবিনের চারা বেশি জমিতে রোপণ করা হবে কিনা, তা নির্ভর করবে সরকার প্রদত্ত ভর্তুকির ওপর।

চীন জানায়, উৎপাদন বৃদ্ধির প্রচেষ্টা বাস্তবায়নে গত বছরই বিস্তৃত জমিতে সয়াবিন আবাদ করা হয়। আবাদি জমির পরিমাণ ছিল ১ কোটি ২ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর। ১৯৫৮ সালের পর সর্বোচ্চ আবাদ এটি। চলতি মৌসুমে বিশ্বজুড়ে সয়াবিন উৎপাদন নিয়ে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ায় উৎপাদন পাঁচ বছরের সর্বনিম্নে নামতে পারে বলে জানিয়েছে ইউএসডিএ।

ইউএসডিএ সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড এগ্রিকালচারাল সাপ্লাই অ্যান্ড ডিমান্ড এস্টিমেটস শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, ২০২২-২৩ মৌসুমে সয়াবিনের বৈশ্বিক উৎপাদন দাঁড়াতে পারে ৩৮ কোটি ৩০ লাখ টন। উৎপাদন কমার কারণও জানানো হয়েছে। আর্জেন্টিনা বিশ্বের শীর্ষ সয়াবিন উৎপাদক দেশ। বর্তমানে ভয়াবহ খরায় বিপর্যস্ত দেশটির কৃষিপণ্য উৎপাদন খাত। গত অর্ধশতকে এমন খরা আর দেখা যায়নি। এতে দেশটিতে সয়াবিন উৎপাদন তলানিতে নামার আশঙ্কা রয়েছে, যা বৈশ্বিক উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।