চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলংকার চা রফতানির পরিমাণ কমেছে। বছরওয়ারি দেশটির চা রফতানি ১ কোটি ৮৫ লাখ ৫ হাজার কেজি থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ৭ হাজার কেজিতে। সিলন টি ব্রোকার গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রফতানি পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে এ তথ্য দিয়েছে। সূত্র ইকোনমি নেক্সট।

সরকারের পক্ষ থেকে রাসায়নিক ও আগাছানাশকের ওপর নিষেধাজ্ঞার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশটির চা শিল্পে। আগাছানাশক রাসায়নিকের অপ্রতুলতার কারণে শ্রীলংকার চা উৎপাদনের পরিমাণ ক্রমেই কমছে বলে মনে করছেন শিল্পটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে চা রফতানি থেকে শ্রীলংকার আয় এসেছে ৩ হাজার ৭৮০ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২ হাজার ৩৪ কোটি ডলার বেশি।

শ্রীলংকান চায়ের অন্যতম আমদানিকারক দেশ তুরস্ক। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি নাগাদ ৪৭ লাখ কেজি চা ক্রয়ের মাধ্যমে দেশটি সিলন চায়ের শীর্ষ ক্রেতা হয়ে উঠেছে। ইরাককে পাশ কাটিয়েই শ্রীলংকা থেকে চায়ের শীর্ষ আমদানিকারক দেশের তালিকায় নাম লিখেয়েছে তুরস্ক। দ্বিতীয় অবস্থানে নেমে যাওয়া ইরাকের শ্রীলংকা থেকে আমদানীকৃত চায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৬ লাখ কেজিতে, যা গত বছর ছিল ৭৪ লাখ কেজি।

শ্রীলংকান চায়ের তৃতীয় আমদানিকারক দেশ রাশিয়া। ২০২২ সালে রাশিয়ায় চা রফতানির পরিমাণ ৪৯ লাখ কেজি হলেও চলতি বছর তা দাঁড়িয়েছে ৩৬ কেজিতে। চতুর্থ আমদানিকারক দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্ষেত্রে পরিমাণটি ৩৪ লাখ কেজি, যা আগের বছরের ৩৯ কেজির তুলনায় কম।

আগাছানাশক জাতীয় সারের ওপর সরকারি মেডিকেল অফিসার অ্যাসোসিয়েশনের নিষেধাজ্ঞার কারণে শ্রীলংকায় চায়ের উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২২ সালে শ্রীলংকায় উৎপাদিত চায়ের পরিমাণ ছিল মাত্র ২৫ কোটি ১ লাখ কেজি। 

শ্রীলংকার চা শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, ‘গবেষণায় দেখা গেছে রাষ্ট্রপতি মাইথ্রিপালা সিরিসেনার আগাছানাশক গ্লাইফোসেট রাসায়নিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পরে চা উৎপাদন ক্রমাগত কমেছে।’

চা বাগানমালিকরা জানান, চা শ্রমিকরা বড় বড় আগাছার ঝোপের মধ্যে গিয়ে চা পাতা সংগ্রহ করতে চান না, ফলে পাতা সংগ্রহের পরিমাণ কম হচ্ছে। তাছাড়া আগাছা উপড়ে ফেলায় মাটির ক্ষয়ও বেড়ে যাচ্ছে। শ্রীলংকার চা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দামে স্থিতিশীলতা এলে তৃতীয় প্রান্তিক থেকে চায়ের বাজারের অবস্থা ভালো হতে পারে।