বাংলাদেশে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে সহযোগিতা করতে আগ্রহী যুক্তরাজ্য। বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক গতকাল  পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এমনটা জানিয়েছেন। 

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাক্ষাৎকালে হাছান মাহমুদের হাতে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের শুভেচ্ছা বার্তা তুলে দেন সারাহ কুক। শুভেচ্ছাপত্রে ডেভিড ক্যামেরন আগামীতে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো গভীর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

সাক্ষাৎ শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের দেশে কর-জিডিপি অনুপাত অত্যন্ত কম। এমনকি উপমহাদেশের মধ্যে প্রায় সর্বনিম্ন। যেখানে ইউরোপের দেশগুলোয় ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৩০ শতাংশ, সেখানে আমাদের এ অনুপাত সম্ভবত ১০ শতাংশেরও কম। 

এটি কীভাবে বৃদ্ধি করা যায় সেটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং এ বিষয়ে যুক্তরাজ্য সহযোগিতায় প্রস্তুত।’

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘যুক্তরাজ্য সব সময়ই আমাদের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী ও বন্ধুরাষ্ট্র। হাইকমিশনারের সঙ্গে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি কমিয়ে আনা, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলা, কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনসহ বহুমাত্রিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

ড. হাছান মাহমুদ আরো বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে শুরু থেকে যুক্তরাজ্য আন্তরিক সহযোগিতা করছে। এ বৈঠকেও আমি বলেছি, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে তাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন করা।’ 

সাক্ষাৎ শেষে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক সাংবাদিকদের বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আমার খুব গঠনমূলক বৈঠক হয়েছে। আমরা যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদার করতে, আমাদের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে, আমাদের নিরাপত্তা অংশীদারত্বকে শক্তিশালী করতে এবং জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন ও রোহিঙ্গাদের কল্যাণের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা করেছি।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘আপনারা জানেন যে যুক্তরাজ্য সরকার ৭ জানুয়ারির নির্বাচন, গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার বিষয়ে বিপক্ষতা নির্ধারণ করে একটি বিবৃতি জারি করে। আমরা এ ইস্যুতে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে গঠনমূলকভাবে জড়িত থাকব।’