উৎপাদনে ঘাটতির মুখোমুখি পাকিস্তান। নজিরবিহীন বন্যায় কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সংকুচিত হয়ে পড়ছে খাতটি। চলতি বছর তুলা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯০ লাখ বেল (১ বেল=৪৮০ পাউন্ড)। যদিও প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী, ৪৭ লাখ ৮০ হাজার বেলেই আটকে যাবে উৎপাদন সূচক। এমনটাই জানিয়েছে দেশটির জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তা ও গবেষণা মন্ত্রণালয়। খবর দ্য বিজনেস রেকর্ডার।
মন্ত্রণালয় থেকে জরিপের তথ্য ইকোনমিক কো-অর্ডিনেশন কমিটির (ইসিসি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। ইসিসি আগামী মৌসুমে উৎপাদন ১০-১৫ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতি ৪০ কেজি তুলার বাজারমূল্য ৮ হাজার ৫০০ রুপি নির্ধারণের পরামর্শ দেয়। ১৭ মার্চ দেশটির মন্ত্রিসভা ইসিসির সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছে।
তুলা পাকিস্তানের প্রধান অর্থকরী ফসলগুলোর মধ্যে একটি। ২০০৪-০৫ মৌসুমে দেশটিতে সর্বোচ্চ তুলার উৎপাদন দেখা গেছে। সে বছর উৎপাদন ছিল ১ কোটি ৪১ লাখ বেল। তারপর থেকে প্রতি মৌসুমে উৎপাদন সূচক নিম্নমুখী। মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে এসেছে গত বছরের বন্যা। মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে তুলা আবাদ ও তুলা প্রক্রিয়াজাত। খাতটিতে আসা আঘাত ক্ষত সৃষ্টি করেছে দেশটির অর্থনীতিতেও।
পাকিস্তানে চাষীদের মধ্যে তুলা চাষের আগ্রহও কমে আসছে। এতদিন যারা তুলা উৎপাদন করতেন, তারা ঝুঁকছেন চাল, ভুট্টা ও আখ উৎপাদনে। বর্তমানে টেক্সটাইল শিল্পের চাহিদা পূরণে ১ কোটি ৫০ লাখ বেল তুলা উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে দেশটির। যদি পুরনো আবাদি অঞ্চলগুলোয় নতুন করে তুলা চাষ করা যায় এবং চাষীদের নতুন প্রযুক্তিতে অভিযোজিত করিয়ে নেয়া যায়, তাহলে সেটা অসম্ভব নয়। তবে এজন্য আগে ন্যায্য ও স্থিতিশীল মূল্যকাঠামো নির্ধারণ করা জরুরি বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়।
তুলা উৎপাদনের নিম্নগতি প্রভাব ফেলছে টেক্সটাইল শিল্পের পরিবর্ধনে। বৈশ্বিক মন্দায় বেড়ে গেছে আমদানি খরচ, ভোজ্যতেল ও খাদ্যদ্রব্যের দাম। পাঁচ বছরে তুলা আমদানিতে ব্যয় ৫ হাজার ৬০০ কোটি রুপি অতিক্রম করেছে। ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে গ্রামীণ ও শহুরে অর্থনীতিতে। ২০২১-২২ মৌসুমে তুলার মূল্যনির্ধারণ নীতিতে অভ্যন্তরীণ বাজার বেশ স্থিতিশীল ছিল। উচ্চবিনিয়োগের জন্য সে মৌসুমে ২০ লাখ বেল উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। সফলতার কারণে একই নীতি গ্রহণ করা হয়েছে ২০২২-২৩ অর্থবছরে। কিন্তু নজিরবিহীন বন্যায় ব্যাহত হয় উৎপাদন।
মূল্যনির্ধারণের আগে মন্ত্রণালয় থেকে প্রাদেশিক সরকার, উৎপাদনকারী ও তুলাসংক্রান্ত সংগঠনগুলোর সঙ্গে তিন দফা বৈঠক করা হয়। উৎপাদনকারীদের পক্ষ থেকেই প্রতি ৪০ কেজি তুলার দাম ৭-৮ হাজার রুপি নির্ধারণের প্রস্তাব দেয়া হয়। তাতে সমর্থন দেয় অল পাকিস্তান টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন। সর্বশেষ বৈঠক হয় চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি। দেশটিতে নতুন মৌসুম শুরু হচ্ছে মাত্র। মার্চ-মে পর্যন্ত চলে তুলা বপনের সময়। এমন সময় মূল্যনির্ধারণের ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। উৎপাদনকারীরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ পাবেন। প্রস্তাবিত নতুন দামে উৎপাদন ১০-১৫ শতাংশ বৃদ্ধির আশা প্রকাশ করছে মন্ত্রণালয়। আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে নির্ধারিত মূল্য। প্রতি মাসেই বাজার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবে ইসিসি।









