পোপ লিও চতুর্দশ তার প্রথম এনসাইক্লিক্যাল ম্যাগনিফিকা ‘হিউম্যানিটাস’-এ মানবতার সামনে দুটি পথের কথা বলেছেন—একটি ওপর থেকে নিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা, অন্যটি সাধারণ মানুষকে সংগঠিত করে নিচ থেকে সমাজ পুনর্গঠন। বর্তমান বিশ্বে গণতন্ত্রের সংকট, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও এলিটবিরোধী মনোভাবের পেছনে রয়েছে মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব রাখার সুযোগের অভাব।
আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ব্যবস্থাতেও একই সমস্যা প্রকট। বিভিন্ন প্রকল্প বেশির ভাগ সময় দাতা সংস্থা, বিদেশী ঠিকাদার ও এনজিও নির্ধারণ করে। অথচ যাদের জীবন ও ভবিষ্যৎ এসব প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের ভূমিকা প্রায়ই সীমিত থাকে। হাইতির অভিজ্ঞতা এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। দেশটির স্থানীয় সংগঠনগুলো নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়ন কর্মসূচি নির্ধারণে অংশ নেয়ার সুযোগ চাইলেও শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা তাদের হাতে যায়নি। অর্থাৎ মানুষের জন্য উন্নয়ন হয়েছে, কিন্তু উন্নয়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা তারা পায়নি।
এ অবস্থায় প্রয়োজন স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সংগঠনগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ দেয়া। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক ক্যাম্পেইন ফর হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের অভিজ্ঞতা দেখায়, মূল সংগঠনকে শক্তিশালী করলে মজুরি, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবায় বাস্তব পরিবর্তন আনা সম্ভব। তাই বৈশ্বিক উন্নয়ন অর্থায়নের সামান্য অংশও স্থানীয় সংগঠনের ক্ষমতায়নে বিনিয়োগ করা হলে তা মানুষের নিজস্ব ভবিষ্যৎ নির্মাণের পথ সুগম করতে পারে।
[প্রজেক্ট সিন্ডিকেট থেকে অনূদিত]
গর্ডন হুইটম্যান: ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফেইথ ইন অ্যাকশন ইন্টারন্যাশনাল





