কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সরকারি কাজের গতি বাড়ালেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন ধরনের জট তৈরি করতে পারে। ২০২২ সালে চ্যাটজিপিটি চালুর পর এআই-নির্ভর লেখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে আইনজীবী ছাড়াই করা মামলার হার এবং মেশিনে লেখা দেওয়ানি অভিযোগের সংখ্যা বেড়েছে। একইভাবে করবিধি নিয়ে জনমত ও গবেষণা অনুদানের আবেদনও এআইয়ের কারণে ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
সরকারগুলো এ বাড়তি চাপ সামলাতে নিজেরাও এআই ব্যবহার করছে—নথি অনুসন্ধান, মামলার সারাংশ তৈরি, মন্তব্য বাছাই, চিঠিপত্র প্রস্তুত ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ স্বয়ংক্রিয় করছে। কিন্তু সক্ষমতা বাড়লে চাহিদাও বাড়ে। ফলে কাজের গতি বাড়লেও মানুষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা একই থাকে। এটিই নতুন বটলনেক বা জট তৈরি করে।
এআই মানুষের বিচারবোধকে প্রতিস্থাপন করতে পারে না, বিশেষ করে উচ্চ ঝুঁকির সিদ্ধান্তে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনও কার্যকর মানবীয় তদারকির ওপর জোর দেয়। তাই এআইয়ের লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষকে সিদ্ধান্ত থেকে সরিয়ে দেয়া নয়; বরং তথ্য বিশ্লেষণ, বিকল্প তুলনা, ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা চিহ্নিত করে মানুষের বিচারবোধকে সহায়তা করা।
স্বয়ংক্রিয়তার আয়রনি হলো মেশিন সহজ কাজগুলো নিয়ে নিলে মানুষের হাতে থেকে যায় সবচেয়ে জটিল কাজগুলো। ফলে সবকিছু স্বয়ংক্রিয় করেও সরকার কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা অর্জন নাও করতে পারে।
সামি মাহরুম: স্পার্ক এক্সের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। এর আগে তিনি ইনসিড, ওইসিডি ও নেস্তায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন





