মাত্র দুদিন আগেই মিয়ানমারে আঘাত হানে শক্তিশালী ভূমিকম্প। এতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ সংখ্যা আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এমন পরিস্থিতিতেও বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে জান্তা বাহিনী। খবর বিবিসির।

মিয়ানমারের জান্তা সরকারের এ পদক্ষেপকে সম্পূর্ণরূপে ‘জঘন্য এবং অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির বিশেষ প্রতিনিধি টম অ্যান্ড্রুস বিবিসিকে জানিয়েছেন, এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য যে এমন ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর মানুষ যখন উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে, তখনো সেনাবাহিনী বোমাবর্ষণ করছে।

এখনই সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ওপর যাদের প্রভাব খাটানোর সুযোগ রয়েছে। তাদের উচিত হামলা বন্ধে চাপ প্রয়োগ করা। কারণ এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বিবিসি বার্মিজ নিশ্চিত করেছে, দেশটির উত্তর শান রাজ্যের নাউংচোতে বিমান হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছে। গত শুক্রবার ভূমিকম্প আঘাত হানার তিন ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ওই এলাকায় বিমান হামলা চালানো হয়।

জান্তা সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে লড়াই করা মিয়ানমারের গণতন্ত্রকামী বিদ্রোহী গোষ্ঠী জানিয়েছে উত্তর-পশ্চিম সাগাইং রাজ্যের চাং-ইউ শহরজুড়ে বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এটি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল। এছাড়া থাইল্যান্ড সীমান্তের কাছেও বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

মিয়ানমারের উৎখাত হওয়া বেসামরিক প্রশাসনের প্রতিনিধিত্ব করছে দ্য ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (এনইউজি)। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দুই সপ্তাহের জন্য সামরিক অভিযান বন্ধ রাখবে। আজ রোববার থেকে তা শুরু হবে। তবে আক্রান্ত হলে তারা প্রতিরোধ যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।

বিবিসি বার্মিজ নিউজ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সামরিক সরকার জানিয়েছে, মিয়ানমারে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৬৪৪ জনে পৌঁছেছে। আর ভূমিকম্পে অন্তত ২ হাজার ৯০০ ভবন, ৩০টি রাস্তা এবং ৭টি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে এনইউজি।

রাজধানী নেইপিদোর বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ার ধসে পড়ায় সেটি অকেজো হয়ে গেছে বলে একজন অভ্যন্তরীণ সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে।

জাতিসংঘের মানবিক সংস্থা ওসিএইচএ জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় এবং উত্তর-পশ্চিম মিয়ানমারের হাসপাতালগুলো আহতদের ঢল সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে এবং রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাহায্য পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। শনিবার জানানো হয়, ১৭টি কার্গো ট্রাকে আশ্রয় ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে পাঠানো হচ্ছে, যাতে রক্তের ব্যাগ ও অ্যানাস্থেটিক ওষুধের অভাব মেটানো যায়।

মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ে ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকারীরা ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে খালি হাতে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে চেষ্টা চালিয়েছেন।