সৌদি আরবের দিকে ছোড়া ইরান-সমর্থিত হুথিদের দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও দুটি ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেনি জোট। শনিবার ভোরে জোটটি জানায়, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি খামিস মুশাইত এবং ড্রোন দুটি রাজধানী রিয়াদের দিকে যাচ্ছিল। খবর রয়টার্স।
শনিবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্টে জোটটি জানায়, সৌদি আরবের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের হুমকি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু জানানো হয়নি।
এর আগে রাতভর খামিস মুশাইত ও আবহা শহরের জন্য সতর্কতা জারি করেছিল সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। তবে রিয়াদের জন্য কোনো সতর্কতা জারি করা হয়নি।
গত জুলাইয়ে রিয়াদের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ ঘোষণা করার পর থেকেই সৌদি আরবে হামলা চালিয়ে আসছে ইয়েমেনের জনবহুল অঞ্চল ও দেশটির উত্তরাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণকারী হুথিরা। এসব হামলায় লোহিত সাগরে চলাচলকারী সৌদি জাহাজও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
সৌদি শহর, জ্বালানি অবকাঠামো ও নৌপথে হুথিদের হামলা বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে। একই সময়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে তেল সরবরাহে চাপ বেড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত থাকায় উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রফতানির প্রধান বিকল্প লোহিত সাগরীয় নৌপথও এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এদিকে হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধান এবং প্রতিরক্ষা সহযোগী পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। বৈঠকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা হুমকিগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।
গত মাসে তিন দেশ ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা ও সামরিক সহযোগিতা জোরদার করাই এ চুক্তির লক্ষ্য বলে জানিয়েছিল দেশগুলো।
শনিবার ভোরে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান বলেন, রিয়াদে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে সৌদি আরবের ওপর হামলা মোকাবেলায় যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ উদ্যোগ মক্কা চুক্তির আওতায় পরিচালিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।










