ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার উদ্দেশে যাত্রা করা ত্রাণবাহী জাহাজ ম্যাডলিনকে আটকানোর পর সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গকে ইসরায়েল থেকে বের করে দিয়েছে দেশটির সরকার। মঙ্গলবার (১০ জুন) এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, থুনবার্গ এরইমধ্যে ফ্রান্সগামী ফ্লাইটে তেল আবিব ত্যাগ করেছেন এবং সেখান থেকে সুইডেনে নিজের দেশে ফিরে যাবেন। খবর এপি।

বিশেষ দৃষ্টান্ত হিসেবে থুনবার্গ সাধারণত আকাশপথে ভ্রমণ এড়িয়ে চলেন। তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের প্রকাশ করা একটি ছবিতে তাকে একটি বিমানে বসে থাকতে দেখা গেছে।

থুনবার্গসহ মোট ১২ জন যাত্রী ছিলেন ম্যাডলিন নামের একটি জাহাজে, যা ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন-এর উদ্যোগে গাজায় মানবিক সহায়তা পাঠানোর পাশাপাশি ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ এবং ফিলিস্তিনিদের মানবিক সংকটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে রওনা হয়েছিল।

ইসরায়েলের নাগরিক অধিকার সংস্থা ‘আদালাহ’ জানিয়েছে, থুনবার্গ, আরো দুই অ্যাক্টিভিস্ট এবং একজন সাংবাদিক স্বেচ্ছায় ইসরায়েল ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্য আটজন ফেরত যেতে অস্বীকৃতি জানানোয় তারা বর্তমানে আটক রয়েছেন এবং তাদের বিষয়ে ইসরায়েলি আদালতের শুনানি হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ইসরায়েলের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাবিন হাদ্দাদ বলেন, যেসব কর্মী ইসরায়েল ত্যাগে সম্মত হয়েছেন, তারা বিচারকের সামনে হাজির না হয়ে স্বেচ্ছায় দেশ ত্যাগ করেছেন। যারা সম্মতি দেননি তাদের আদালতের সামনে হাজির করা হবে এবং ৯৬ ঘণ্টা আটকে রাখার পর ইসরায়েল থেকে বের করে দেয়া হবে।

ফরাসি পার্লামেন্ট সদস্য এবং ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত রিমা হাসানও স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে জাহাজে ছিলেন। ইসরায়েলের নীতির বিরোধিতা করায় তাকে আগেই ইসরায়েলে প্রবেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে তাকে সঙ্গে সঙ্গে বহিষ্কার না আটক রাখা হয়েছে—সে তথ্য এখনো নিশ্চিত নয়।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল ব্যারো জানান, আটকদের মধ্যে একজন ফরাসি নাগরিক ইসরায়েল ত্যাগের নথিতে স্বাক্ষর করে মঙ্গলবারই ফ্রান্সে ফিরে যাবেন। অন্য পাঁচজন রাজি হননি। সকলেই কনসুলার সহায়তা পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

সোমবার ভোরে গাজার উপকূল থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার (১২৫ মাইল) দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি নৌবাহিনী জাহাজটিকে জব্দ করে বলে দাবি যা ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের। তারা এবং অন্যান্য মানবাধিকার গোষ্ঠী একে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে অভিযোগ তুলেছে। তবে ইসরায়েল বলেছে, এই ধরনের জাহাজ গাজায় তাদের বৈধ নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করেছে। তাই এর বৈধতা তারা অস্বীকার করে না।

এদিকে আদালাহ জানিয়েছে, ইসরায়েলের এই অভিযান আন্তর্জাতিক জলসীমায় সংঘটিত হওয়ায় সেটির কোনো বৈধতা নেই। তাদের দাবি অনুযায়ী, জাহাজটি ইসরায়েলের উদ্দেশ্যে নয়, বরং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের জলসীমায় যাচ্ছিল।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও এই ঘটনার নিন্দা করে বলেছে, নৌ অভিযানের মাধ্যমে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করেছে। তারা অবিলম্বে এবং শর্তহীনভাবে আটককৃতদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে।

আদালাহ আরো বলেছে, নিরস্ত্র বেসামরিক কর্মীরা যারা মানবিক সহায়তা নিয়ে যাত্রা করেছিলেন, তাদের গ্রেফতার আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।