কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং সরকারি পদের অপব্যবহারের অভিযোগে লন্ডনে গ্রেফতার হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে লন্ডন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। ৭২ বছর বয়সী এই হেভিওয়েট রাজনীতিকের বিরুদ্ধে সরকারি অফিসে থাকাকালীন অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে জামিনে মুক্তি দেয়া হলেও চলছে তদন্ত। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

পিটার ম্যান্ডেলসনের এই পতন অত্যন্ত নাটকীয়। গত বছরের সেপ্টেম্বরে তার ও এপস্টেইনের মধ্যকার গভীর বন্ধুত্বের বিষয়টি সামনে আসার পরই তাকে রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত কিছু ইমেইল থেকে জানা যায়, ২০০৯ সালে গর্ডন ব্রাউন সরকারের মন্ত্রী থাকাকালীন ম্যান্ডেলসন এই ধনকুবেরের সঙ্গে অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করেছিলেন। এই ঘটনার জেরে সম্প্রতি তিনি লেবার পার্টি এবং পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ থেকেও পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

লন্ডন পুলিশ জানিয়েছে, ম্যান্ডেলসনের সেন্ট্রাল লন্ডনের বাড়ি এবং উইল্টশায়ারের বাসভবনে তল্লাশি চালানোর পর তাকে গ্রেফতার করা হয়। এদিন সাদা পোশাকের পুলিশ তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার সময় গণমাধ্যমের ক্যামেরায় ধরা পড়েন ম্যান্ডেলসেন। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই একই ধরনের অভিযোগে রাজা তৃতীয় চার্লসের ভাই প্রিন্স অ্যান্ড্রু ওরফে অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাদের দুজনের বিরুদ্ধেই অভিযোগ যে, তারা এপস্টেইনকে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি সরবরাহ করেছিলেন।

ঘটনাটি এখন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের জন্য বড় রাজনৈতিক সংকটে পরিণত হয়েছে। ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়ার আগে তার অতীত কেন সঠিকভাবে যাচাই করা হয়নি, তা নিয়ে পার্লামেন্টে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিরোধী দলগুলো স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করছে। এদিকে আগামী মার্চ মাসে এই নিয়োগ সংক্রান্ত সরকারি নথিগুলো জনসমক্ষে প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে পার্লামেন্ট।

পিটার ম্যান্ডেলসন ব্রিটেনের রাজনীতিতে ‘নিউ লেবার’ প্রকল্পের অন্যতম স্থপতি হিসেবে পরিচিত হলেও তার ক্যারিয়ার ছিল বিতর্কে ঘেরা। এর আগেও ১৯৯৮ এবং ২০০১ সালে ভিন্ন ভিন্ন অভিযোগে তিনি দুবার মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। এবার এপস্টেইন কেলেঙ্কারিতে তার জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হলে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মতো কঠিন সাজা দেয়া হতে পারে।