অনুবাদ: শওকত হোসেন
‘ছোটবেলায় শার্লক হোমসের গল্পগুলো পড়েছি আমি এবং নিমেষেই তার সবকিছু অনুপুঙ্খভাবে লক্ষ করায় প্রায় অলৌকিক ক্ষমতায় মুগ্ধ হয়ে গেছি।’
করিম আব্দুল জব্বার এনবিএর সর্বকালের সেরা স্কোরার ও ছয়বারের এনবিএ চ্যাম্পিয়ন। তিনি আমেরিকার মুষ্টিমেয় প্রভাবশালী ও শ্রদ্ধেয় কৃষ্ণাঙ্গের অন্যতম, যাদের ওয়াশিংটন পোস্ট ও টাইম সাময়িকীর নিয়মিত কলাম লেখক হিসেবে একটি জাতীয় অবস্থান রয়েছে। এসব কলামে তিনি আজকের দিনে মার্কিনদের মোকাবেলা করা সামাজিকভাবে প্রাসঙ্গিক এবং রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে নিজের চিন্তাভাবনা সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করেন। অ্যাথলিট, অ্যাক্টিভিস্ট ও নিউইয়র্ক টাইমস বেস্ট সেলিং লেখক হিসেবে ৫০ বছর কাটিয়ে তিনি বিভিন্ন লেকচার সার্কিটে উপস্থিত হওয়া জাতীয়ভাবে স্বীকৃত বক্তা হিসেবে এসব সমস্যার কিছু কিছু সম্মিলিতভাবে মীমাংসা করার উপায় সম্পর্কে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরছেন। ২০১৬ সালে টাইম বুক থেকে তার সর্বশেষ রাজনৈতিক গ্রন্থ প্রকাশ হয়েছে। বইটি আজকের দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এসে দাঁড়ানো রাজনৈতিক বিষয়ে তার নিজস্ব মতামত তুলে ধরেছে।
২০১২ সালে করিম তত্কালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি রডহ্যাম ক্লিন্টনের হাতে মার্কিন সাংস্কৃতিক দূত হিসেবে নিয়োগ পান। ইদানীং তিনি নিজস্ব স্কাই-হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করছেন। উদ্ভাবনী বহিরঙ্গন পরিবেশগত শিক্ষার মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত সমাজের কাছে শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দিয়ে ‘শিশুদের হাতে একটা সুযোগ তুলে দেয়া, যেটা ছিনিয়ে নেয়া যাবে না’— এ ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য। করিমের অতিসাম্প্রতিক প্রকল্পের ভেতর রয়েছে এইচবিওর সবচেয়ে বেশি দেখা ও সর্বোচ্চ রেটিং পাওয়া ২০১৫ সালের নভেম্বরে সূচিত ক্রীড়াবিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র করিম: মাইনরিটি অব ওয়া’। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে টাইটান পাবলিশিং থেকে বেরোনো তার প্রথম উপন্যাস মাইক্রোফট হোমস— একটি রহস্য উপন্যাস ও শার্লক হোমসের বড় ভাইকে নিয়ে অ্যাকশন বা রহস্য সিরিজের প্রথম কিস্তি। এ উপন্যাসের সাফল্যের ফলে কমিক মাইক্রোফট হোমস অ্যান্ড দি অ্যাপোক্যালিপ্স হ্যান্ডবুক ২০১৬ সালের তৃতীয় ও চতুর্থ ত্রৈমাসিকে প্রকাশিত পাঁচটি খণ্ডের সিরিজ হিসেবে গড়ে তোলা হয়।
নিচে ‘বুক রায়টে’র নেয়া তার সাক্ষাত্কারের তর্জমা তুলে ধরা হলো—
প্রশ্ন: শুনেছি, আপনি বলেছেন, ‘বাস্কেট বলের ব্যাপারটা বাদ না সাধলে’ পেশাদার লেখকই হতেন। কোন জিনিসটা আপনাকে ফের লেখালেখিতে ফিরিয়ে এনেছে? লেখালেখি ভালো লাগার প্রক্রিয়াটি কেমন ছিল? বিশেষ কোনো বইকে কি উপভোগ্য বা সহায়ক বলে সুপারিশ করবেন? আপনার নির্দিষ্ট কোনো লেখার রুটিন আছে?
উত্তর: বরারবরই উত্সাহী পাঠক ছিলাম আমি। ইতিহাস থেকে রাজনীতি পর্যন্ত সব বিষয়ের বইই পড়ি। তো গোড়ার দিকে পড়াশোনাটা ভালো লাগার বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণার প্রতি আমার ঝোঁক নিয়ে মেতে ওঠার একটা উপায় ছিল। যেমন ধরুন, হার্লেম রেনেসাঁর নারী-পুরুষের প্রতি বরবারই গভীর মুগ্ধতা ছিল আমার। তো আমার পক্ষে সম্ভব এ-সংক্রান্ত সবকিছুই পড়ার পর অন দ্য শোল্ডার অব জায়ান্টস: মাই জার্নি থ্রু দ্য হার্লেম রেনেসাঁ লিখি। ব্ল্যাক প্রোফাইলস ইন কারিজ: আ লিগ্যাসি অব আফ্রিকান-আমেরিকান অ্যাচিভমেন্ট ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সম্পূর্ণ কৃষ্ণাঙ্গ ট্যাংক ব্যাটালিয়ন সম্পর্কে ব্রাদার্স ইন আর্মস লেখার সময়ও তা-ই করেছি। এর কিছু পরে গল্প লেখার চেষ্টা করার মতো আস্থা বোধ করেছিলাম আমি।
বিভিন্ন সফর আর বক্তৃতার অঙ্গীকারের কারণে আমার সময়সূচিতে কিছুটা তাড়াহুড়ো থাকতে পারে, কিন্তু সারা দিনের নানা ঝামেলা আমার চিন্তা প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করার আগে সকালের দিকেই লেখার চেষ্টা করি। বসে কয়েক ছত্র লিখি, প্রত্যেকটা শব্দকেই ঘেন্না লাগে, সহ্য করতে না পারা অবধি লিখে যাই। কোনো কোনো দিন সহ্য করার মতো অবস্থায় যেতেই পারি না। লেখালেখির ব্যাপারটা আসলে শৃঙ্খলা, আমার খেলোয়াড়ি জীবন থেকেই এর সঙ্গে পরিচিত আমি।
আমাকে শিক্ষা দেয়ার জন্য প্রিয় লেখকদের লেখা যতটা কাজে লাগাই, ততটা কিন্তু লেখালেখির ওপর বইপত্র পড়ি না। লরি মুর থেকে উপমাগত ভাষা শিখি, ওয়াল্টার মোসলি আর এলমোর লেনার্ডের কাছ থেকে শিখি গতি আর সংলাপ; গিলিয়ান ফ্লিন ও জেনিফার ইগানের কাছ থেকে জটিল চরিত্রায়ণ। নন-ফিকশনের বেলায় গভীরতা ও মাহাত্ম্য আছে, এমন শক্তিশালী সত্য তুলে ধরতেই বেশি আগ্রহী আমি। জেমস বল্ডউইন, অ্যালেক্স হেলি, ম্যালকম এক্স ও টা-নেহিসি পল কোতসের কাছ থেকে শিখেছি এটা।
প্রশ্ন: আপনি কী পড়তে পছন্দ করেন? প্রিয় কোনো ঘরানা আছে? আপনি যথেষ্ট ব্যস্ত মানুষ বলেই মনে হয়। আপনার সময়সূচিতে পড়াশোনাকে মানিয়ে নেন কেমন করে? গদ্যের পাশাপাশি কমিকও পড়েন? দুটো মাধ্যমে আপনার প্রিয় কোনগুলো? লেখক হিসেবে আপনাকে প্রভাবিত করেছে, এমন বিশেষ কোনো লেখা আছে? অনুপ্রেরণার জন্য ফিরে যান, এমন কোনো লেখা (শার্লক হোমস বাদে) আছে? ‘স্বস্তিকর খোরাক’ হিসেবে পড়াশোনা?
উত্তর: পড়াশোনা আমার সবচেয়ে প্রিয় অবসর বিনোদন। তো আমার সময়সূচিতে যত ব্যস্ততা থাকুক, বরাবরই পড়ার জন্য সময় বের করে নিই। পড়াশোনা আমাকে ওয়াকিবহাল করে তোলার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সবার ব্যক্তিগত ও সামাজিক সংগ্রামের সঙ্গে জড়িত রাখে বলে বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকেও উত্তেজক ব্যাপার। আমার কয়েকটা প্রিয় বই হচ্ছে ওয়াল্টার মোসলির ফিয়ারলেস জোন্স, ইসাবেল উইলকারসনের দ্য ওয়ার্মথ অব আদার সানস: দি এপিক স্টোরি অব আমেরিকা’জ গ্রেট মাইগ্রেশন, জেমস বল্ডইউনের দ্য ফায়ার নেক্সট টাইম, টা-নেহিসি কোতসের বিটুইন দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড মি, ইশমায়েল রিডের রেকলেস আইবলিং, র্যান্ডি রবার্টস ও জনি স্মিথের ব্লাড ব্রাদার্স: দ্য ফেটাল ফ্রেন্ডশিপ বিটুইন মুহাম্মদ আলি অ্যান্ড ম্যালকম এক্স এবং আরো কয়েক ডজন বই, নাম বলতে গেলে লম্বা লিস্ট হয়ে যাবে।
আমার প্রিয় কমিক বই ও লেখকরা হলেন ব্রায়ান কে. ফনের ওয়াই: লাস্ট ম্যান ও সাগা; অ্যালান মুরের দ্য ওয়াচম্যান; মার্ক ওয়েইড ও অ্যালেক্স রসের কিংডম কাম; গার্থ এনিসের দ্য পানিশার, প্রিচার ও হিটম্যান। মার্ক মিলারের ওয়ান্টেড, কিক-অ্যাস, কিংসম্যান। ম্যাট ফ্র্যাকশন, গ্রান্ট মরিসন ও ফ্র্যাঙ্ক মিলারের লেখা যেকোনো কিছু। আবার যাদের প্রতি ভালোবাসা ফুরিয়ে গেছে, তাদের বাদ দিচ্ছি। এসব রচনা কমিক বইকে ধারালো বাস্তববাদ ও পরিশীলিত কাহিনীর স্তরে নিয়ে গেছে।
প্রশ্ন: কবে প্রথম হোমস ভাইদের মুখোমুখি হন? সাহিত্যরূপে, নাকি অন্য কিছু? আরো বেশি জনপ্রিয়, বেশি প্রশংসিত শার্লকের চেয়ে কোন জিনিসটা আপনাকে মাইক্রোফটের প্রতি আকর্ষণ করেছিল? তার ব্যক্তিত্বই কি আপনার নজর কেড়ে নিয়েছে? বিশেষ কোনো গল্পের বিশেষ কোনো মুহূর্ত? তার বলা কিছু কিংবা ব্যক্তিত্বের কোনো দিক? আপনার জীবনের কারো কথা কি মনে করিয়ে দিয়েছে সে?
উত্তর: ছোটবেলায় শার্লক হোমসের গল্পগুলো পড়েছি আমি এবং নিমেষেই তার সবকিছু অনুপুঙ্খভাবে লক্ষ করার প্রায় অলৌকিক ক্ষমতায় মুগ্ধ হয়ে গেছি। যেন অন্যরা যেখানে দুনিয়াটাকে সাদা-কালোয় দেখছে, সেখানে সে রঙিন দুনিয়া দেখছে। আমিও রঙ দেখতে চেয়েছি। তাই পর্যবেক্ষণক্ষমতাকে শানিয়ে তুলতে এবং যতদূর সম্ভব পড়ে তাকে অনুকরণ করার প্রয়াস পেয়েছি। বাস্তব জীবনে যেখানে ঘাটতির মুখে পড়েছি, মাইক্রোফট দিয়ে সৃষ্টি করা কাল্পনিক জগতে সেটা পুষিয়ে নিয়েছি।
আমি মাইক্রোফট বেছে নিয়েছি, তার কারণ আরো অনেকেই এরই মধ্যে শার্লককে দখল করে নিয়েছেন। গল্পগুলোয় অমন আবছা একটা চরিত্রকে গড়ে তোলার ধারণাটুকু আমার বেশ মনে ধরেছিল। আমার কল্পনা যেখানে নিয়ে যায়, ততদূর তার সঙ্গে যেতে স্বাধীন ছিলাম আমি।
প্রশ্ন: মাইক্রোফটকে একটি পূর্ণাঙ্গ বাস্তব চরিত্র হিসেবে গড়ে তুলতে কীভাবে অগ্রসর হয়ছেন? আপনার কাছে গোড়ার দিকের বছরগুলোর দৃশ্যপটে এক উত্তেজনাকর ফুর্তিবাজ বা অভিযাত্রী ভদ্রলোক হিসেবে তার উপস্থিতি সম্পর্ক কী বলবেন। কোনান ডয়েলের কাছ থেকে কী নিয়েছেন আপনি? অন্য কোনো সাহিত্যিক চরিত্র কি বড় ভাই হোমসের চরিত্র গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যোগ দেয়ার দাবি তুলেছে? গুপ্তচর থেকে সিংহাসনের পেছনের শক্তিতে রূপান্তর নিয়ে লেখার কোনো পরিকল্পনা আছে?
উত্তর: গল্পগুলোয় তার সম্পর্কে যেমন ধারণা দেয়া হয়েছে, তার উল্টো কিছু করতে চেয়েছিলাম ওকে, বুদ্ধিমান কিন্তু স্থূলকায়, কর্তৃত্বপরায়ণ আমলা। মনে আছে, শার্লক হোমসই ওর বর্ণনা দিচ্ছে আর শার্লক সবসময় নির্ভরযোগ্য উত্স নয়। তারও ক্ষুদ্রতার মুহূর্ত আছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, শার্লকের সামাজিক ব্যক্তিত্বের উল্টোটাই চেয়েছিলাম আমি। শার্লকের মতো ওই ধরনের বিশাল বুদ্ধিমত্তার মানুষ যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, মাইক্রোফট সেভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত। কিন্তু ব্যাপারটাকে সে জুয়া খেলা, নারী আর আত্মপ্রমোদে মেতে থেকে সামাল দেয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, দারুণ রসবোধ রয়েছে ওর। ওর সঙ্গ দারুণ উপভোগ করি বলেই আশা করছি, ওকে নিয়ে আরো লিখব।
প্রশ্ন: মাইক্রোফটের কোন দিকটা আপনার বর্তমান সামাজিক বা রাজনৈতিক পরিবেশের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক হিসেবে দেখেন?
উত্তর: মাইক্রোফট মানুষের বিভিন্ন সমস্যায় জড়াতে অনীহ। ফুর্তিবাজ ষণ্ডের জীবন যাপন করেই ভালো আছে সে। কিন্তু এ অ্যাডভেঞ্চারে যত জড়িয়ে পড়ছে, ততই অন্যদের প্রতি নিজের দায়িত্বটুকু বুঝতে শুরু করছে। আমাদের দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে চাইলে সবারই এ শিক্ষাটুকুর দরকার আছে।
প্রশ্ন: আপনার রানী ভিক্টোরিয়া প্রায়ই বর্ণিত এক ঐতিহাসিক চরিত্রে আমার অন্যতম পছন্দের বর্ণনা: বিশেষ কাউকে ভেবে কি তাকে গড়ে তোলা হয়েছে (সাহিত্যিক বা অন্য কেউ)? আপনার কাছে কি একটি কাল্পনিক চরিত্র ও ঐতিহাসিক চরিত্র বেছে নেয়ার ভেতর কোনো পার্থক্য আছে? ভিক্টোরিয়াকে নিয়ে আপনার কোনো পাঠ্যতালিকা আছে?
উত্তর: তাকে নিয়ে প্রচুর গবেষণা করেছি, কিন্তু বেশির ভাগই কাজে লাগাতে পারিনি। তার সম্পর্কে বহু কৌতূহলোদ্দীপক তথ্য পেয়েছি। প্রথমে সেগুলোকে গল্পে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু গতিতে বাধা সৃষ্টি করায় বাদ দিয়ে স্রেফ তাকে যেমন কল্পনা করেছি, সেভাবেই আগ্রহ জাগানো, মেধাবী ও সজীব করে তোলার দিকেই মনোযোগ দিয়েছি।
প্রশ্ন: আপনার কি প্রিয় ধ্রুপদী হোমস পারিবারিক কাহিনী আছে?
উত্তর: গোটাকতক প্রিয় কাহিনী আছে আমার, কিন্তু ঢের বেশি জটিল ও উন্নত বলে উপন্যাসগুলোই বেশি পছন্দ। আমার সবচেয়ে প্রিয় হোমস উপন্যাস হলো দ্য হাউন্ডস অব দ্য বাস্কারভিল। ...
প্রশ্ন: আপনি ২০১৫ সালে মাইক্রোফট হোমস (আনা ওয়াটারহাউজের সঙ্গে) ও ২০১৬ সালে মাইক্রোফট হোমস অ্যান্ড দি অ্যাপোক্যালিপ্স হ্যান্ডবুক (রেমন্ড অবস্টফিল্ড, জোশুয়া কাসারা ও লুইস গিরেররোর সঙ্গে) নামে উপন্যাস লিখেছেন: একজন লেখক হিসেবে মাধ্যমের পরিবর্তন কেমন ছিল? কীভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন? কোনো একটি মাধ্যম অনেক অনায়াসে আসে বলে মনে করেন? কোনটা আপনার পছন্দ, গদ্য নাকি কমিক? পরিবর্তনে সাহায্য করেছে, এমন কোনো শিক্ষামূলক বই ছিল? বিশেষ কোনো কমিক বই, যেটাকে মডেল হিসেবে ব্যবহার করেছেন?
উত্তর: উপন্যাস ও কমিক দুটো লিখতেই পুরোপুরি পছন্দ করি আমি। কারণ গল্পগুলো একেবারেই ভিন্ন এবং প্রতিটি ঘরানারই নিজস্ব চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রচলিত হোমসজগতের অংশ হিসেবে উপন্যাসকে নিয়ে থাকি আমি। ধরন, পটভূমি, সংলাপ আর চরিত্রায়ণ— এসবই স্বাভাবিক আর্থার কোনান ডয়েলের কাহিনীরই স্মৃতিবাহী। আমার গোটা জীবনকে আমোদিত করেছে যে জগত্, তাতে ডুবে যেতে খুবই ভালোবাসি আমি।
মাইক্রোফট হোমসের কমিক বইয়ের জগতে আমার পা রাখা সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। একে আমি ডিসি এলসওয়ার্ল্ডসের মতো দেখেছি, যেখানে ওগুলো অন্য রকম ‘যদি এমন হতো?’ সম্ভাবনা নিয়ে ভেবেছে। আমার উপন্যাস থেকে একেবারে আলাদা একজন মাইক্রোফট সৃষ্টির স্বাধীনতা সত্যিই উপভোগ করেছি আমি। এ মাইক্রোফট অ্যাডভেঞ্চার আরো বেশি করে ইন্ডিয়ানা জোন্স ও গার্ডিয়ান্স অব দ্য গ্যালাক্সির আদলে হয়ে উঠুক— এমনটাই চাই আমি।
প্রশ্ন: জিজ্ঞেস না করে পারছি না, অ্যামাজনে গ্রাফিক উপন্যাস অ্যাপোক্যালিপ্স হ্যান্ডবুককে ‘প্রথম খণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার মানে কি আরো আসছে?
উত্তর: তাই তো আশা করি। বলার মতো বেশকিছু উত্তেজনাকর গল্প আছে আমার কাছে।
প্রশ্ন: এ মুহূর্তে কী পড়ছেন?
উত্তর: মাত্র জো ইদের লেখা দুর্দান্ত রহস্যোপন্যাস আইকিউ শেষ করলাম। আসলে এই অর্থে এটা শার্লকীয় জগতে একটা চমত্কার সংযোজন যে, এর মূল চরিত্রটি দক্ষিণমধ্য লস অ্যাঞ্জেলেসের একটা রুক্ষ মহল্লার কৃষ্ণাঙ্গ বালক, শার্লকের মতোই গুণ রয়েছে ওর। কোনান ডয়েলের শার্লক চরিত্রটির বৈচিত্র্যময়তার প্রতি এটা এক ধরনের শ্রদ্ধার প্রকাশ। নানা পরিস্থিতি আর চরিত্রে ওকে মানিয়ে নেয়া যায়। আমার কাছে শার্লক ও মাইক্রোফট মানুষের যৌক্তিক, কৌতূহলী ও প্রতিদিনের জীবনে আমরা যেসব রহস্যের সামনে পড়ি, সেগুলো সমাধানের আকাঙ্ক্ষার চরম দিকটি তুলে ধরে। কিন্তু গল্পগুলো আবার কেবল জ্ঞানের খাতিরে সেদিকে বেশি মনোযোগ দিতে গেলে আমাদের তা মানবিকতা থেকে বিচ্ছিন্ন করে বসতে পারে বলে সতর্কও করে দেয়।
প্রশ্ন: এ মুহূর্তে কিছু লিখছেন? আপনার চলতি প্রকল্প সম্পর্কে কী বলার আছে?
উত্তর: সবসময়ই একসঙ্গে বেশ কয়েকটা কাজ চলতে থাকে আমার। মাইক্রোফটকে নিয়ে দ্বিতীয় উপন্যাসের খসড়া সবে শেষ করেছি। তবে এখনো কিছু ঘষামাজা বাকি আছে। বিকামিং করিমও শেষ করেছি। এটা আমার প্রাথমিক স্কুলজীবন থেকে শুরু করে এনবিএতে প্রথম বছরের আত্মজীবনী।
প্রশ্ন: মাইক্রোফট হোমস বা অ্যাপোক্যালিপ্স হ্যান্ডবুকের যেকোনো একটি টিভি বা চলচ্চিত্রে নেয়া হলে কাকে মাইক্রোফট হিসেবে বেছে নেবেন?
উত্তর: নিকোলাস হোউল্ট, অ্যাবাউট আ বয়ে আমাদের মন ভেঙে দিয়েছিলেন তিনি, আবার ম্যাড ম্যাক্স: ফিউরি রোডে কেমন যেন ভয় পাইয়ে দিয়েছেন। চরিত্রটি সামলানোর ক্ষেত্রে যথেষ্ট বৈচিত্র্যময়।
প্রশ্ন: ডাউনি বা কাম্বারব্যাচ? তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে ফ্রাই কিংবা গ্যাটিস?
উত্তর: যেমন বললাম, হোমসীয় হাজারো ভিন্ন ভিন্ন মহাবিশ্ব আর ব্যাখ্যার অবকাশ রয়ে গেছে। স্রেফ স্টাইলের ঔদ্ধত্যের কারণেই গাই রিচিকে নেয়া আমার পছন্দ। কিন্তু গল্প কী হতে পারে, বিবিসি ভাষ্যই তার স্বর্ণমান। শার্লক হোমস কাহিনীগুলোকে সাহিত্যের স্তরে তুলে দিয়েছে। চরিত্রায়ণ অনন্য, প্লটগুলো অসাধারণ, অ্যাকশন সাসপেন্সে ভরা। অথচ সেগুলোর মূলে সমৃদ্ধ সাহিত্যিক ভাবনা।
স্টিফেন ফ্রাইকে আমি পছন্দ করি। রিচির ফিল্মগুলোয় তার মাইক্রোফটের মজাদার বিচিত্র চরিত্রায়ণ ছবিতে ভিন্ন আনন্দ যোগ করেছে। ব্ল্যাকঅ্যাডার ২ থেকে কিংডম পর্যন্ত নানা ভূমিকায় তাকে আমার ভালো লেগেছে। তার লেখাও আগাগোড়া ভালো লেগেছে। কিন্তু মার্ক গ্যাটিসের মাইক্রোফট চরিত্রটিকে বিকশিত করে তোলার মতো অনেক বেশি পর্ব ছিল এবং দুর্দান্তভাবেই সেটা করেছেন তিনি। শার্লকের প্রতি সহানুভূতি ও বিদ্রূপাত্মক প্রাধান্যের মিশেল অনুষ্ঠানকে মনের একটা বাড়তি অংশ তুলে দিয়েছে।






