চট্টগ্রামে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ১৮৩ রানের টার্গেটে নেমে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৮ ওভারে প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয় স্বাগতিকরা। তাওহীদ হৃদয় ২৭ বলে হার না মানা ফিফটি করে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। শেষ ৯ ওভারে জিততে ৮৮ রানের প্রয়োজন ছিল, স্বাগতিকরা তা তুলে নেয় ৭ ওভারে। এ জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল লিটন দাসের দল।

আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮২ রান সংগ্রহ করেছে কিউইরা। জবাবে তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসানের সতর্কভাবে সূচনা করলেও ৭৭ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সাজঘরে ফিরে যান সাইফ হাসান, লিটন দাস ও তানজিদ হাসান। এরপর নতুন জুটিতে ঝড় তুলে দলের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন তাওহীদ হৃদয় ও পারভেজ হোসেন ইমন। তাদের দৃঢ়তায় ১১ ওভারশেষে টাইগারদের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ৯৫ রান। দুজন ২৮ বলে ৫৭ রান তুলে দিলে দলের কাজটা সহজ হয়ে যায়। ১৪ বলে ২৮ রান করে ইমন আউট হয়ে যাওয়ার সময় দলের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ১৩৪ রান।

hridoy 27

পঞ্চম উইকেটে শামীম হোসেনকে নিয়ে ২১ বলে ৪৯ রান যোগ করে দলের রাজসিক জয় নিশ্চিত করেন তাওহীদ। তিনি ২ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায় ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন। ১৩ বলে ৩ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন শামীম।

সাগরিকায় টস জিতে বোলিং বেছে নেয় বাংলাদেশ। কিউই ইনিংসে শুরুর দিকে রানআউটের শিকার হন টিম রবিনসন। তানজিম হাসান সাকিবের বল থেকে সিঙ্গেল নিতে গেলে তাওহীদ হৃদয়ের সরাসরি থ্রোতে তিনি রানআউট হয়ে যান।

এরপর ঝড় তোলেন কাতেনে ক্লার্ক ও ডেন ক্লিভার। তাদের দাপটে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারশেষে কিউইদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬১/১। পরে এ দুজন ৫০ বলে ৮৮ রান যোগ করে দলীয় ৯৯ রানের সময় বিচ্ছিন্ন হন। ক্লিভারকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে জুটি ভাঙেন স্পিনার রিশাদ হোসেন। নিজের পরের ওভারে ক্লার্ককেও ফেরান তিনি। ক্লার্ক ও ক্লিভার দুজনই করেন সমান ৫১ রান। একটু পরে বেভন জ্যাকসবকে আউট করেন পেস বোলার তানজিম সাকিব। রিশাদকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন বেভন। ১৪ ওভার শেষে কিউইদের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ১২৭ রান।

১৫তম ওভারের শেষ বলে পঞ্চম উইকেটের পতন হয় নিউজিল্যান্ডের। তখন দলটির রান ছিল ১৩০। সেখান থেকে নিক কেলি ও জস ক্লার্কসনের দৃঢ়তায় দলটি পেয়ে যায় ১৮২ রানের ভালো সংগ্রহ। কেলি ২৭ বলে ৩৯ ও ক্লার্কসন ১৪ বলে ২৭ রান করেন। ষষ্ঠ উইকেটে ১৭ বলে ৩২ রান যোগ করেন দুজন। এরপর নাথান স্মিথকে নিয়ে তিনি ১৩ বলে ২০ রান তুলে দিলে সংগ্রহ ১৮০ পেরিয়ে যায় কিউইদের।

রিশাদ ৩২ রানে ২টি এবং শরীফুল ইসলাম, তানজিম সাকিব ও শেখ মেহেদী হাসান একটি করে উইকেট নেন।

বাংলাদেশকে ১৮৩ রানের চ্যালেঞ্জিং টার্গেট দিয়েও জিততে পারেনি কিউইরা। প্রথম ৬ ব্যাটারই দুই অঙ্ক ছোঁয়ায় বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত জিতেছে সহজেই। ম্যাচসেরা হয়েছেন তাওহীদ হৃদয়।

বুধবার চট্টগ্রামে দ্বিতীয় ও শনিবার ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ। এর আগে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটা ২-১-এ জিতে নেয় বাংলাদেশ।