গত বছরে নির্মাণ শেষ হয়েছিল জাহিদুর রহিম অঞ্জন পরিচালিত ‘‌চাঁদের অমাবস্যা’ সিনেমার। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর উপন্যাস চাঁদের অমাবস্যার ছায়া অবলম্বনে সিনেমার গল্প সাজানো হয়েছে। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন আসাদুজ্জামান নূর, তনয় বিশ্বাস, ইরেশ যাকের, দ্বীপান্বিতা মার্টিন, শাহানা সুমি প্রমুখ। সিনেমাটির মুক্তি নিয়ে কথা হয় নির্মাতার সঙ্গে। 

‌চাঁদের অমাবস্যার মুক্তি নিয়ে জাহিদুর রহিম অঞ্জন বলেন, ‘‌আমরা সিনেমাটার কাজ শেষ করেছি। যেহেতু এটা অনুদানের সিনেমা, তাই কিছু প্রসেস চলছে। যদি সব কাজ ঠিকভাবে শেষ হয়, তবে সিনেমাটা ডিসেম্বরের দিকে মুক্তি দেয়ার ইচ্ছা আছে আমাদের। মন্ত্রণালয় ও সেন্সরসংক্রান্ত কাজগুলোর জন্য এখন অপেক্ষা।’ 

বর্তমান সময়ে অনেক সিনেমাই ওটিটিতে মুক্তি পাচ্ছে। আবার কিছু সিনেমা হলে মুক্তির পর ওটিটিতে মুক্তি পায়। আমাদের দেশেও বর্তমান সময়ে এ বিষয়গুলো দেখা যাচ্ছে। চাঁদের অমাবস্যার ক্ষেত্রে কী ভাবছেন জানতে চাইলে এ নির্মাতা বলেন, ‘‌চাঁদের অমাবস্যা আমরা আগে হলে মুক্তি দিতে চাই। তারপর ওটিটিতে মুক্তি দেব। আমাদের সিনেমাটির সঙ্গে চরকি যুক্ত আছে। ওটিটি প্লাটফর্ম চরকির সঙ্গে এখন পর্যন্ত এভাবেই কথা হয়েছে যে সিনেমাটা আগে প্রেক্ষাগৃহে যাবে, এরপর ওটিটি।’ 

জাহিদুর রহিম অঞ্জনের দ্বিতীয় সিনেমা ‌চাঁদের অমাবস্যা। এর আগে নির্মাতা তার প্রথম সিনেমা ‘‌মেঘমল্লার’ দিয়ে দর্শকের প্রশংসা পেয়েছেন। সিনেমাটি পৃথিবীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত ও প্রশংসিত হয়েছে। ২০১৪ সালে শ্রেষ্ঠ পরিচালকসহ মোট পাঁচটি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে মেঘমল্লার। সিনেমার গল্প আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের রেইনকোট থেকে অনুপ্রাণিত। সাহিত্যনির্ভর সিনেমা নির্মাণে জাহিদুর রহিম অঞ্জনের আগ্রহ দেখা যায়। এ কারণেই তিনি এবার বেছে নিয়েছেন সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর চাঁদের অমাবস্যা। নির্মাতা নিজেই এ সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছেন। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘ওয়ালীউল্লাহর উপন্যাসটি নিয়ে অনেক দিন ধরে কাজ করার ইচ্ছা ছিল আমার। উপন্যাসটা বেছে নেয়ার কারণ হলো প্রথমত এটা অবশ্যই বাংলা সাহিত্যের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ আখ্যান, এছাড়া উপন্যাস নিয়ে যদি আমার কোনো ভাবনা থেকে থাকে তা এ সিনেমার মধ্যেই আনতে চেষ্টা করেছি। ফলে এটা শুধু আখ্যান নয়, ভিন্ন কিছুই বটে।’

নব্বইয়ের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর। হুমায়ূন আহমেদের কোথাও কেউ নেই নাটকে বাকের ভাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করে সব বয়সী দর্শকের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। চাঁদের অমাবস্যার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর বড় পর্দায় কাজ করছেন কিংবদন্তি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর। এ উপন্যাসের ঘটনার মূল কেন্দ্রে রয়েছে মাত্র তিনটি চরিত্র। আরেফ আলী, কাদের ও আফজাল উদ্দীন চৌধুরী। এ সিনেমায় আসাদুজ্জামান নূরকে দেখা যাবে আফজাল চৌধুরীর চরিত্রে। কাদের মিয়ার চরিত্রে রয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ইরেশ যাকের। তনয় বিশ্বাস অভিনয় করেছেন আরেফ আলীর চরিত্রে। এছাড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে দ্বীপান্বিতা মার্টিনকে। 

চাঁদের অমাবস্যায় কাজ করার অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে এক সাক্ষাৎকারে বণিক বার্তাকে ইরেশ যাকের বলেন, ‘‌উপন্যাসটি অসাধারণ। আর এটা থেকে নির্মিত সিনেমায় কাজ করা অবশ্যই আমার জন্য অন্য রকম ছিল। বেশির ভাগ সিনেমার ক্ষেত্রে দেখা যায় সংলাপের ওপর ভিত্তি করে সিনেমার গল্প এগোয়। তবে চাঁদের অমাবস্যায় পরিবেশটাকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বলা যায়, এ সিনেমার একটা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র চাঁদ। আমরা পরিবেশকে গুরুত্ব দিয়ে অভিনয় করেছি। আমাদের কাজে এক ধরনের ভিন্নতা ছিল। যে সিকুয়েন্স আমরা ২ মিনিটে করতে পারি, সেটা আমরা সচেতনভাবেই সময় নিয়ে করেছি। এর ভেতরে আমরা বিভিন্ন জিনিস উপস্থাপন করেছি। পরিবেশটাকে যাতে গল্পটা সমর্থন করে সেভাবেই আমাদের অভিনয় করতে হয়েছে। আমার কাছে মনে হয় সিনেমাটি দেখতে গিয়ে দর্শকের নতুন অভিজ্ঞতা হবে।’

সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত সিনেমাটির শুটিং চলেছে গত বছরের জানুয়ারিতে। টানা তিন সপ্তাহজুড়ে সিনেমাটির শুটিং করা হয়েছে। মুন্সিগঞ্জ ও মানিকগঞ্জের নানা স্থানে সিনেমাটির দৃশ্যধারণ হয়েছে।