চলতি মাসের শুরুতেই ঘোষণা আসে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ১০ জন নির্মাতাকে নিয়ে ১২টি সিনেমা নির্মাণ করতে যাচ্ছেন। ওটিটি প্লাটফর্ম চরকির উদ্যোগে নেয়া এ প্রকল্পের নাম ‘মিনিস্ট্রি অব লাভ’। প্রকল্পে প্রেমের গল্প নিয়ে ১২টি ওয়েব ফিল্ম নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে দুটি ফিল্ম নির্মাণ করবেন ফারুকী। ২০২৩ ও ২০২৪ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এ ফিল্মগুলো মুক্তি পাবে চরকিতে।
নির্মাতা ও কো-প্রডিউসার হিসেবে এ প্রকল্পের সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকছেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। ওয়েব ফিল্মের কাজ অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছেন ফারুকী সেটি তিনি আগেই বলেছিলেন। তবে এবারে তার সিনেমার ঝলক দেখালেন। সম্প্রতি ফারুকী জানালেন ‘মিনিস্ট্রি অব লাভ’-এর প্রথম সিনেমা হতে যাচ্ছে ‘লাস্ট ডিফেন্ডার অব মনোগামী’ ওয়েব ফিল্মটি, আর এটি নির্মাণ করেছেন তিনি। শিগগিরই চরকিতে আসচ্ছে তার ওয়েব ফিল্মটি। এতে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী, জেফার, সামিনা হোসেন প্রেমাসহ আরো অনেকে। সিনেমাটির বিষয়ে শনিবার জানানোর পর থেকেই আলোচনা চলছে এ নিয়ে। ফারুকী ভক্তরা লম্বা সময় পর তাদের প্রিয় নির্মাতার কাজ দেখতে পারবেন এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আগ্রহ তৈরি হয়েছে এ সিনেমার গল্প ও অভিনেতাদের নিয়ে।
‘লাস্ট ডিফেন্ডার অব মনোগামী’র গল্প প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফারুকী বলেন, ‘আমার প্রিয় একটা কাজ হচ্ছে, মানুষের মনের ভেতর ছিপ ফেলে দেখা কী কী ধরা পড়ে সেখানে। ছোট-বড়, তুচ্ছ-গুরুত্বপূর্ণ সবই আমাকে নাড়া দেয়। মনোগামীতে অনেক দিন পর নারী-পুরুষের সম্পর্কের কিছু দিক তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছি। আমার ব্যাচেলর সিনেমাটিতে ব্যাচেলর জীবনের কিছু দিক কোনো রকম রাখঢাক ছাড়া দেখাতে পেরেছিলাম। আর আসন্ন ওয়েব ফিল্মে আমি এখানে বিবাহিত এবং প্রবাহিত জীবনের কিছু দিক কোনো সুইট কোটিং ছাড়া দেখানোর সুযোগ পেয়েছি।’
ফারুকীর প্রথম পরিচালিত সিনেমা ‘ব্যাচেলর’। ব্যবসা সফল এ সিনেমা ২০০৪ সালে মুক্তির পর ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল।
ওয়েব ফিল্মটির অভিনেতাদের প্রসঙ্গে ফারুকী বলেন, ‘চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে আমার কাজের অভিজ্ঞতা তো বহু পুরনো। এখানেও একই রকম অপ্রতিরোধ্য অভিনয় করেছেন তিনি। এ ধরনের চরিত্র কম করার ফলে একটা দারুণ ফ্রেশনেস তিনি নিয়ে এসেছেন তার অভিনয়ের মধ্যে। জেফার রহমানকে আমরা গায়ক হিসেবে চিনি। এখানে তাকে অচেনাই লাগবে বলে আমার মনে হচ্ছে। কিন্তু এটা বলতেই হবে—এখানে এ চরিত্রে জেফার থাকার কারণে আমার গল্পটা প্রাণবন্ত হয়েছে।’
চঞ্চল চৌধুরীকে দর্শক নানা চরিত্রে নানা লুকে দেখেছে। বিশেষ করে ওটিটি প্লাটফর্মে তাকে ভিন্নধর্মী বিভিন্ন চরিত্রে দেখা গেছে। চঞ্চলের দাবি, আসন্ন ওয়েব ফিল্মটিতে তাকে একদম ভিন্নভাবে দেখবে দর্শক, যা তারা আগে কখনো দেখেনি। নিজের চরিত্র ও কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে চঞ্চল চৌধুরী বলেন, ‘ফারুকী ভাইয়ের সঙ্গে আমার ২০০৫ থেকে কাজের শুরু, এখন ২০২৩। আমার ক্যরিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট ছিল সেই কাজটি। আর এবার মনোগামী সিনেমার গল্পটাই একদম আলাদা। সিনেমায় কিছু মনস্তাত্ত্বিক দিক আছে যা দর্শককে ভাবাবে। আর এখানে আমার চরিত্রের লুক, গেটআপ একদম ভিন্ন থাকবে এখানে।’
এ সিনেমার একটি চমক হচ্ছে, বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জেফার। ভিন্ন ধারার গান এবং ফ্যাশন স্টেটমেন্টের জন্য সবার নজর কেড়েছেন। এ সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো অভিনয়ে আসছেন তিনি।
কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে জেফার বলেন, ‘একজন সংগীতশিল্পী হিসেবে আগেও পর্দায় হাজির হয়েছি। কিন্তু মনোগামী সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো একজন অভিনেতা হিসেবে পর্দায় আসব। বিষয়টি আমার জন্য অনেক আনন্দের, একই সঙ্গে চ্যালেঞ্জিং। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সিনেমায় অভিনয় করতে পারা এবং সহঅভিনেতা হিসেবে চঞ্চল চৌধুরীকে পাওয়া আমার জন্য কিছুটা চাপের এবং একই সঙ্গে ভীষণ রোমাঞ্চকর।’
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘ডুব’। এতে অভিনয় করেছিলেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ইরফান খান। এছাড়া আরো ছিলেন নুসরাত ইমরোজ তিশা, রোকেয়া প্রাচী ও পার্ণো মিত্র। বর্তমানে মুক্তির অপেক্ষায় আছে ফারুকীর দুই সিনেমা ‘শনিবার বিকেল’ ও ‘নো ল্যান্ডস ম্যান’।










