দেশের গুণী নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। প্রায় ২৫ বছর ধরে পরিচালনায় যুক্ত আছেন তিনি, কিন্তু ক্যামেরার সামনে একবারও দেখা যায়নি তাকে। তবে এর ব্যতিক্রম হয়েছে ফারুকী পরিচালিত ওয়েব ফিল্ম ‘সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’র ক্ষেত্রে। পরিচালনার পাশাপাশি সিনেমা অভিনয়ও করেছেন এ নির্মাতা। এ ওয়েব ফিল্মে তার সহশিল্পী হিসেবে আছেন সহধর্মিণী নুসরাত ইমরোজ তিশা। নির্মাণ শেষে ওয়েব ফিল্মটি অংশ নিয়ে বুসান চলচ্চিত্র উৎসবের ২৮তম আসরে অংশ নিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে। সে ধারাবাহিকতায় মুম্বাই ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ‘আইকনস: সাউথ এশিয়া’ বিভাগে অংশ নিয়েছে ফারুকীর ওয়েব ফিল্মটি। এরই মধ্যে দুটি প্রদর্শনী হয়েছে। দুটি শো হাউজফুল ছিল বলে জানান ফারুকী। 

ওয়েব ফিল্মটির মুম্বাইয়ের প্রদর্শনী নিয়ে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, ‘ভালোবাসা কি বাঁধিয়ে রাখা যায়? তাহলে মুম্বাইতে এ দুদিন আমরা যা পেয়েছি তা বাঁধাইয়া নিয়া আসতাম। আজ ছিল আমাদের সেকেন্ড শো! আজও ফুল হাউজ। ফুল হাউজের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ছিল ফুল হার্ট ভালোবাসা। কতবার যে আমার চোখ ভিজিয়ে দিয়েছে মুম্বাই। আরেকটা মজার কথা হলো একটা ইন্টারেস্টিং এক্সপেরিমেন্ট হয়ে গেল এখানে। মুম্বাই ফেস্টিভ্যালের ডায়নামিক ডিরেক্টর দীপ্তির কল্যাণে পাঁচদিন আগে যে দৃশ্য আমি শুট করেছি, সেটা সহই মুম্বাইয়ের প্রথম শোটা হয়েছে এবং আমার ও দর্শকের মন ভরে গেছে। কিন্তু ওরা দ্বিতীয় শোতে ভুল করে আগের ভার্সন দেখিয়ে দিয়েছে। আমি সেটা জানতাম না। কিন্তু দর্শকের প্রতিক্রিয়া একই রকম। একই ভালোবাসা, একই আবেগ। প্রিয় বাংলাদেশ, এবার তোমার কাছে ছবিটা নেয়ার অপেক্ষায়।’

অটোবায়োগ্রাফি সিনেমায় মোস্তফা সরয়ার ফারুকী-নুসরাত ইমরোজ তিশা একসঙ্গে অভিনয় করার পাশাপাশি চিত্রনাট্য লেখার কাজটিও করেছেন দুজন মিলে। তিশার জন্য চিত্রনাট্য লেখার কাজটা প্রথমবারের মতো হলেও এটি সে বেশ আনন্দ নিয়েই করেছেন বলে জানান। মাতৃত্বের পর এ সিনেমা দিয়েই নুসরাত ইমরোজ তিশার কাজে ফেরা। তিনি বলেন, ‘ইলহাম হওয়ার পর এত তাড়াতাড়ি কাজ শুরু করতে পারব, এটা ধারণা ছিল না। থ্যাংকস টু ফারুকী! ও আমাকে সে আত্মবিশ্বাসটা দিয়েছে যে আমি আবার ফিট হয়ে কাজ করতে পারব। ইলহাম হওয়ার পর এমন ইমোশনাল গল্পে আমি কাজ করতে পেরেছি, তার জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি।’ ফারুকীর সঙ্গে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল জানিয়ে তিশা বলেন, ‘ফারুকী খুব ভালো ডিরেক্টরের পাশাপাশি একজন ভালো অভিনেতা আগে থেকেই ছিল। কিন্তু সেটা ক্যামেরার পেছনে। এখন তা সবার সামনে চলে এল আর কী।’

মুম্বাই ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের অভিজ্ঞতা নিয়ে নুসরাত ইমরোজ তিশা বলেন, ‘মুম্বাই ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে দুটি চমৎকার প্রদর্শনী হলো আমাদের সিনেমার। একটা অসাধারণ অভিজ্ঞতা হলো আমাদের। হল ভর্তি দর্শক সিনেমাটা দেখেছে এটা অনেক আনন্দের।’

সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফিতে ফারুকী-তিশার সঙ্গে আরো দেখা যাবে ইরেশ যাকের, শরাফ আহমেদ জীবন, ডলি জহুরকে। ওয়েব ফিল্মটি ওটিটি প্লাটফর্ম চরকির ‘মিনিস্ট্রি অব লাভ’ প্রজেক্টের সিনেমা। চরকিতে মিনিস্ট্রি অব লাভ প্রজেক্টে জনপ্রিয় ১২ জন নির্মাতা ভালোবাসার গল্প নিয়ে ১২টি চরকি অরিজিনাল ফিল্ম বানাচ্ছেন। পুরো প্রজেক্টের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আছেন জনপ্রিয় নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তিনি নিজেই নির্মাণ করছেন দুটি সিনেমা। কিছুদিন আগেই ঘোষণা দেয়া হয় ফারুকীর প্রথম সিনেমা ‘মনোগামী’র। সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি বা অটোবায়োগ্রাফি ফারুকী পরিচালিত আরেকটি সিনেমা। এরই মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে অটোবায়োগ্রাফি ওয়েব ফিল্মটির ট্রেলার। দর্শক ট্রেলার দেখেও ওয়েব ফিল্মের প্রশংসা করেছে। এবার অপেক্ষা ফারুকী অভিনীত এ ওয়েব ফিল্মের মুক্তির।