শহীদ সাংবাদিক ও সাহিত্যিক শহীদুল্লা কায়সার এবং তার স্ত্রী পান্না কায়সারের জীবনের একটি অংশ নিয়ে সিনেমা নির্মাণের কাজ চলছে। সিনেমার নাম ‘দিগন্তে ফুলের আগুন’। এ দম্পতির মেয়ে অভিনেত্রী শমী কায়সারের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ধানসিঁড়ি প্রডাকশন থেকে নির্মাণ হচ্ছে সিনেমাটি। সিনেমা পরিচালনা করছেন ওয়াহিদ তারেক। গত মাসের শুরুতেই রাজধানীর ইস্কাটনে সিনেমার শুটিং শুরু হয়েছিল। এতে পান্না কায়সারের চরিত্রে অভিনয় করছেন বিদ্যা সিনহা মিম। অন্যদিকে, শহীদুল্লা কায়সারের চরিত্রে তার বিপরীতে অভিনয় করছেন অভিনেতা মোস্তফা মনওয়ার। নতুন খবর হলো, শনিবার সিনেমাটির শুটিং শেষ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুটিং শেষে সিনেমাটির বাকি সদস্যদের সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করে জানিয়েছেন মিম।
দিগন্তে ফুলের আগুন সিনেমাটি নিয়ে বিদ্যা সিনহা মিম বলেন, ‘দিগন্তে ফুলের আগুনের শুটিং শেষ হয়েছে। শমী আপুকে ধন্যবাদ, এটি তার প্রথম প্রযোজনা। যদিও পান্না কায়সারের চরিত্রে অভিনয় করা আমার জন্য খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল, আমি সত্যিই আমার পুরো শুটিং উপভোগ করেছি। পরিচালক দুর্দান্ত একজন মানুষ। আমি তার সঙ্গে কাজ করে অনেক কিছু শিখেছি। আমি আমার দলের সব সদস্যকে অনেক ধন্যবাদ জানাই। সবার সার্বিক সহযোগিতায় কাজটি সুন্দরভাবে শেষ হলো। সবার সঙ্গে হলে দেখা।’
সিনেমাটির শুটিং শুরু হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি সাদাকালো ছবি দিয়ে আসন্ন সিনেমার চরিত্রের লুক প্রকাশ করেছিলেন মিম। সে থেকে সিনেমাটি নিয়ে চলতে থাকে আলোচনা। সাদা শাড়িতে মাথায় ঘোমটা টেনে পান্না কায়সার বেশে ধরা দিয়েছেন অভিনেত্রী। তার পাশেই মোস্তফা মনওয়ার শার্ট ও মোটা ফ্রেমের চশমায় সেজেছেন শহীদুল্লা কায়সার। ছবির ক্যাপশনে মিম লিখেছেন, ‘পান্না কায়সার ও শহীদুল্লা কায়সার।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লুকের জন্য প্রশংসা পাচ্ছেন মিম ও মনওয়ার।
শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে মিম বলেন, ‘পান্না আন্টির হাঁটা-চলা সবকিছু নিখুঁতভাবে করার চেষ্টা করেছি সিনেমাটিতে। একাধিকবার রিহার্সেল করতে হয়েছে। শুরুর দিকে নিজের আউটফিটের রিহার্সেল করতাম। পরে তার লুক নিয়ে যখন রিহার্সেল করতাম, তখন পরিচালক ওয়াহিদ তারেক ভাইয়া বলতেন এখন ঠিকঠাক। পান্না আন্টির একাধিক শাড়ি এ সিনেমায় আমি পরেছি। তিনি যখন যেখানে যে শাড়ি পরতেন, শমী আপু আমাকে তার সে শাড়িগুলো দিয়েছেন।’
সিনেমাটিতে নিজের চরিত্র নিয়ে জানতে চাইলে বিদ্যা সিনহা মিম বলেন, ‘আমি সবসময় ভালো গল্প ও চরিত্রে অভিনয় করতে চাই, যা দর্শককে ভাবাবে এবং ভালো লাগা দেবে। সেই সঙ্গে একজন অভিনেত্রী হিসেবে আমাকেও তৃপ্তি দেবে। আমার বিশ্বাস ভালো কিছু হবে। এ সিনেমায় পান্না কায়সারের চরিত্রে অভিনয় করার আগে তার সম্পর্কে অনেক জানতে হয়েছে। তার অনেক ইন্টারভিউ দেখেছি, পড়েছি। পরিচালকের কাছ থেকে অনেক তথ্য জেনেছি। এছাড়া শমী কায়সার আপুর কাছ থেকেও জেনেছি পান্না কায়সার সম্পর্কে। আমার ক্যারিয়ারে ভালো একটি সিনেমা যুক্ত হতে যাচ্ছে। আমি নিজেও অভিনয় করে খুশি।’
পান্না কায়সার একজন লেখক, বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিবিদ। তার অন্য একটি পরিচয় তিনি প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সাহিত্যিক শহীদুল্লা কায়সারের স্ত্রী। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর আলবদর বাহিনী শহীদুল্লা কায়সারকে ধরে নিয়ে যায়। তিনি আর ফিরে আসেননি। এরপর পান্না কায়সার মেয়ে শমী ও ছেলে অমিতাভকে নিয়ে নতুন যুদ্ধ শুরু করেন। পান্না কায়সার প্রসঙ্গে মিম বলেন, ‘অধ্যাপক পান্না কায়সারের সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল আমার। কিন্তু আফসোস এরপর দুঃসংবাদটি পাই তিনি আর নেই। আমার এ আফসোস সারা জীবন থেকে যাবে, এ অতৃপ্তি কোনোদিনই পূরণ হবে না।’
দিগন্তে ফুলের আগুন সিনেমার শুটিং শুরু হওয়ার কিছুদিন পর ৪ আগস্ট মারা যান পান্না কায়সার। এরপর কয়েক দিন শুটিং বন্ধ ছিল। আর অবশেষে হয়েছে সিনেমার শুটিং। এখন পর্দায় নতুন মিম এবং মোস্তফা মনওয়ারকে দেখার পালা।










