দেশের খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী, কার্টুনিস্ট, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও অধ্যাপক রফিকুন নবী। বরেণ্য এ শিল্পী ‘রনবী’ নামেই বেশি পরিচিত তার ভক্ত ও অনুরাগীদের কাছে। ২৮ নভেম্বর ৮০তম জন্মবর্ষ পূর্ণ করতে যাচ্ছেন তিনি। শিল্পীর জন্মবর্ষপূর্তিকে বিপুলভাবে উৎসবমণ্ডিত করার জন্য নানা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে ‘শিল্পী রফিকুন নবীর ৮০তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন কমিটি ২০২৩’। এ আয়োজনের মধ্যে রয়েছে একটি সাম্প্রতিককালে আঁকা চিত্রের প্রদর্শনী, রেট্রসপেকটিভ প্রদর্শনী, টোকাই ও রফিকুন নবীর প্রচ্ছদ অলংকরণসহ বিচিত্র কাজের প্রদর্শনী, টোকাই কার্টুনের চার খণ্ড বই প্রকাশ, জন্মোৎসব আয়োজন।

গতকাল শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে শুরু হয়েছে রেট্রসপেকটিভ প্রদর্শনী। প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয়েছে গতকাল বিকাল ৪টায় জাতীয় জাদুঘরের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব মিলনায়তনে। এ অনুষ্ঠানেই টোকাই কার্টুনের চার খণ্ড বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর পর্ষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর এমপি, উপস্থাপনা করেন বরেণ্য অভিনেতা আফজাল হোসেন। নলিনীকান্ত ভট্টশালী মিলনায়তনে ১৯৫৭-২০২৩ সাল পর্যন্ত রফিকুন নবীর সৃজিত শিল্পযাত্রার নানা পর্যায়ের বৈচিত্র্যময় শিল্পধারাকে ৯৩টি চিত্রকর্মের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হচ্ছে। জাদুঘরের এ প্রদর্শনী চলবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। 

অনুষ্ঠানের শুরুতেই শিল্পীর জন্মদিনের আগাম শুভেচ্ছা দিতে আসেন তার অনুরাগীরা। রফিকুন নবী এ আয়োজনের শুরুতে ব্যক্তিদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি বলেন, ‘‌আমার প্রদর্শনী উপলক্ষে সম্মানিত অতিথি ও উপস্থিত সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। ৮০ বছর সবাই যত আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করলেন, আমি মনে করি আমার জন্য ততটা সুখকর না। এই যে চিত্রকলার যাত্রা, সেটা এত সহজ ছিল না। কোনো না কোনো বিপদ-আপদের মধ্য দিয়েই আমাদের পথ চলা। আমার শিক্ষক বলতেন, এ যাত্রার মধ্য দিয়েই জানতে হবে কী হচ্ছে। দেশে কী চলছে জানতে হবে একজন শিল্পীকে। তা থেকে আমরাও শিখতে পেরেছিলাম। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন যখন চারুকলার যাত্রা করলেন, সে সময়ও খুব সুখকর ছিল না। সে সময়ে তারা কেবল শিল্পী নন, একজন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিলেন। সে সময় আমরাও অনেক কিছু শিখেছি। আর্ট কলেজে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই অনেক কিছু শিখেছি। এই আমার পথচলা। আজ পর্যন্ত শিল্পী হওয়ার চেষ্টা করছি। আমার আজও মনে হয় না আমি শিল্পী। আমি এ আশায় বাঁচি, আরো কিছুদিন বাঁচলে হয়তো শিল্পী হব।

এ আয়োজন উপলক্ষে আসাদুজ্জামান নূর কবিতা পাঠ করে শোনান। এছাড়া তিনি শিল্পী রফিকুন নবীকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে দেশের শিল্প-সংস্কৃতিতে তার অবদান নিয়ে কথা বলেন। ঢাকার পোগস স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ১৯৫০ সালে ঢাকা আর্ট কলেজে ভর্তি হন রফিকুন নবী। এ সময় তিনি বইয়ের প্রচ্ছদ এঁকে সুনাম অর্জন করেন। ১৯৬২ সালে এশিয়া ফাউন্ডেশনের বৃত্তি নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন তিনি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অর্থ, কাপড় ও খাদ্য সংগ্রহ করেন। 

শিল্পক্ষেত্রের কর্মজীবনে রফিুকন নবী গ্রন্থের প্রচ্ছদ আঁকা ও বইয়ের অলংকরণের কাজে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন। তার ‘কার্টুন’ ও ‘টোকাই’ সিরিজ দুটি দেশ-বিদেশে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়।