গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার কাটাবাড়ী ইউনিয়নের নাসিরাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম।

নিহতরা সবাই পার্শ্ববর্তী বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, তারা একটি সংঘবদ্ধ গরুচোর চক্রের সদস্য তারা।

তিনজনের মধ্যে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার দামপাড়া গ্রামের মালিব্বর মিয়ার ছেলে কাউসার আলীর (৩২) পরিচয় পাওয়া গেছে। বাকিদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছে রংপুর রেঞ্জের সিআইডির ক্রাইম সিনের একটি ইউনিট।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দিবাগত রাতে গোবিন্দগঞ্জ ও দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী মাজার এলাকার হেলালীপাড়ায় আব্দুস সালামের বসতবাড়ির পাশে পাকা গোয়াল ঘরের দেয়াল ভেঙে তিনটি গরু চুরি করে পিকআপে করে নিয়ে যাওয়ার সময় বাড়ির লোকজন টের পায়। তারা চিৎকার-চেঁচামেচি করলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসে। তখন সবাই মিলে লাঠিসোটা হাতে পিকআপের পেছনে তাদের ধাওয়া করলে তারা পার্শ্ববর্তী নাসিরাবাদ গ্রামের দিকে পালিয়ে যায়। সেখানে এলাকাবাসীর বাধার মুখে পিকআপ থেকে তিনজন রাস্তার পাশে পুকুরে ঝাঁপ দিলেও গরু নিয়ে পিকআপটি পালিয়ে যায়। এ সময় শত শত উত্তেজিত জনতা ইট-পাটকেল ছুড়ে তাদের পুকুর থেকে তুলে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হয়। অন্য একজন গুরুতর আহত হয়। পরে খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনের মরদেহ উদ্ধার ও আহত একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন গাইবান্ধার পুলিশ সুপার নিশাত এ্যাঞ্জেলা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শরীফ আল রাজীব, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) রশিদুল বারী ও থানার ওসি বুলবুল ইসলাম।

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রশিদুল বারী বলেন, ‘মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা মর্গে পাঠানো হয়েছে। একজনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেলেও অন্য দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হতে ডিএনএ টেস্ট করা হবে। তিনজনকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।’