দ্বীপ জেলা ভোলায় অস্বাভাবিক জোয়ারের চাপে
নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রভাবিত হচ্ছে। এতে করে সদর উপজেলা, দৌলতখান,
লালমোহন, তজুমদ্দিন, মনপুরা ও চরফ্যাশনের ৮টি ইউনয়িনের প্রত্যন্ত ৫০ গ্রাম প্লাবিত
হয়েছে। এ অবস্থায় টানা ৫ দিন প্লাবনের মধ্যে রয়েছে লক্ষাধিক মানুষ।
গত ৯ আগস্ট দুপুর থেকে মেঘনার পানি বিপৎসীমার
৩ দশমিক ৭২ সেন্টিমিটার (সেমি) উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। কোন কোন জায়গায় পুরোনো বাঁধ
ভেঙে পানি এসে তলিয়ে গেছে বসত বাড়ি, মাছের ঘের, ফসলি জমিসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
আবার কোন কোন স্থানে বেড়িবাঁধ না থাকা আবার কোথাও জরাজীর্ণ বাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানি
প্রবেশ করছে। ভাটার সময় কিছুটা পানি নামতে না নামতেই আবার শুরু হয় জোয়ার।
গত শুক্রবার দুপুর থেকে পানির চাপ আরো বৃদ্ধি
পেয়ে ওই সকল অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার সদর উপজেলার ইলিশা,
রাজাপুর, দৌলতখানের হাজিপুর, মদনপুর, মেদুয়া, ভবানীপুর, মনপুরা উপজেলার মনপুরা ও হাজিহাট
ইউনিয়নের কাউয়ারটেক, আন্দির পাড়, দাসেরহাট, নাইবেরহাট, সোনার চর, পূর্ব আন্দির পাড়
ও কলাতলীর চর, তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর, মহাজনকান্দি, হাজিকান্দি, দরিচাঁদপুর, কেয়ামূলা,
বালিয়াকান্দি ও ভুলাইকান্দি এবং চরফ্যাশন উপজেলার কুকরী-মুকরী, ঢালচর, চর পাতিলা, মাদ্রাজ
ও নজরুল নগরের বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
জেলা পাউবোর তত্ত্বাধায়ক প্রকৌশলী মো. বাবুল
আক্তার বলেন, কয়েক দিন যাবত অস্বাভাবিক হারে পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলার
বেড়িবাঁধ রয়েছে চরম ঝুঁকিতে। কোন কোন স্থানে বেড়িবাঁধ না থাকায় সেকল অঞ্চল তলিয়ে যাচ্ছে
জোয়ারের পানিতে। দৌলতখান, মনপুরা, চরফ্যাশনের কয়েকটি স্থানে পানির প্রবল চাপে বাঁধ
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বাঁধ মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক
মনিটরিংয়ের পাশাপাশি ভাঙা বাঁধের সংস্কারের কাজও চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান।
এদিকে জোয়ারের পানিতে বিভিন্ন মানুষের ভেসে
গেছে পুকুরের কয়েক লাখ টাকার মাছ। ভেঙে গেছে উপকূলীয় এলাকার কয়েক কিলোমিটার সড়ক। ঢালচরের
মত্স্য ব্যবসায়ী মো. মাহাবুব আলম জানান, এ ইউনিয়নের শতাধিক মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে
গিয়ে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
জোয়ারের পানি বেড়ে চরফ্যাশনের উপকূলবর্তী
নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। টানা পাঁচ দিনে বহু মানুষের পুকুর ও মাছের ঘেরের কয়েক কোটি
টাকার মাছ ভেসে গেছে। চরফ্যাশনের মাদ্রাজ ইউনিয়নের বাসিন্দা জাহিদ হাসান বলেন, আমরা
গরীব বলে কেউ আমাদের দিকে খেয়াল করে না। টানা পাঁচ দিন যাবত পানির মধ্যে জীবন যাপন
করছি। জোয়ার আসার সঙ্গেই তলিয়ে যায় আমাদের এলাকার বহু মানুষের বসত বাড়ি। ভাটায় পানি
নামতে শুরু করতেই আবার জোয়ার চলে আসে। বহু মানুষ এসে শুধু দেখেই যায়। কিন্তু কেউই কোন
ধরনের সহযোগিতা করে না।
এ ব্যাপারে ভোলা সদর উপজেলার সিনিয়র মত্স্য
কর্মকর্তা মো. জামাল হোসাইন বলেন, জোয়ারের পানিতে অনেক পুকুর এবং মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত
হয়েছে। পানির চাপ কমে গেলে আমরা তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাব।
প্লবিত বহু পরিবারের জীবন চলছে অর্ধাহার-অনাহারে।
তারা এখন সাহায্যের জন্য তাকিয়ে আছে সরকারের দিকে।
রাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল হক বলেন,
জোয়ারের পানিতে আমার ইাউনিয়নের প্রায় দুই শতাধিক ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে থাকে। এর মধ্যে
১ নং ওয়ার্ডটি একেবারেই তলিয়ে গেছে। আমার পক্ষ থেকে কিছু পরিবারকে কোন রকম সাহায্য
সহযোগিতা করতে পারলেও এখন পর্যন্ত জেলা প্রশাসন কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে কোন ধরনের
সাহায্য পৌছায়নি।
এ ব্যাপারে ভোলা জেলা প্রশাসক মো. তৌফিক ইলাহী চৌধুরী বলেন, এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরির জন্য প্রতিটি উপজেলার ইউএনওদের বলা হয়েছে। তারা তালিকা তৈরির কাজ করছেন।










