খুলনা বিভাগে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে এইডস রোগী। বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে খুলনাঞ্চল। গত ছয় মাসে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্টি রেক্ট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) সেন্টারে ৪২ জনের নমুনায় এইচআইভির জীবাণু শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্ত হয়েছে খুলনা জেলায়। একই সময়ে এ রোগে মৃত্যু হয়েছে ১৫ জনের।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ও এআরটি সেন্টারের ফোকাল পারসন ডা. দীপ কুমার দাশ বলেন, ‘সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় খুলনা অঞ্চলে এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে সমুদ্র ও স্থল সীমান্ত অতিক্রম করে প্রবেশকারীদের রক্ত পরীক্ষা না করা, নিষিদ্ধপল্লী ও ভাসমান যৌনকর্মীদের নিয়মিত রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকা, যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহারে অনীহার কারণে এ পরিস্থিতি জটিল রূপ নিচ্ছে। শুধু অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের জন্য এইচআইভি আক্রান্ত হয় বিষয়টি তেমন নয়। এইডস রোগীর রক্ত নিলেও এইচআইভি যে কেউ আক্রান্ত হতে পারে। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের জ্ঞান ও সচেতনতা কম।’
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এআরটি সেন্টারের কাউন্সিলর কাম অ্যাডমিনিস্ট্রেটর দিবেশ ওঝা জানান, ছয় মাসে তাদের এ সেন্টার থেকে ৪৬০ জনের রক্ত পরীক্ষা করে ৪২ জন শরীরে এইচআইভি পজিটিভ পাওয়া যায়। এর মধ্যে পুরুষ ২৭ ও ১৫ জন নারী রয়েছেন। একই সময়ে বিভিন্ন জেলা থেকে এ সেন্টারে এইচআইভি পজিটিভ ৪৩ জনকে রেফার করা হয়। সে হিসাবে এ বিভাগে ছয় মাসে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮৫ জন। এ পর্যন্ত এআরটি সেন্টারে আইডিভুক্ত এইডস রোগীর সংখ্যা ৫৭৫ জন। এর মধ্যে নিয়মিত ওষুধ সেবন করছেন ৪৪০ জন। শনাক্তের মধ্যে খুলনা জেলায় সর্বোচ্চ বেশি। এ জেলায় শনাক্ত হয় ১৯ জনের। এছাড়া বাগেরহাটে ১০ জন, যশোরে ছয়, নড়াইলে তিন এবং বরগুনা, গোপালগঞ্জ, ঝিনাইদহ ও সাতক্ষীরায় একজন করে এইডস রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ১৫ জনের। এর মধ্যে যশোরে ছয়, খুলনায় তিন, নড়াইল ও সাতক্ষীরায় দুজন করে এবং বাগেরহাট ও মেহেরপুরে একজন করে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
খুলনার সিভিল সার্জন সুজাত আহমেদ বলেন, ‘খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এআরটি সেন্টার থেকে বিনামূল্যে এইডস রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এইডস বিষয়ে জ্ঞান কম থাকার কারণে মানুষ এ বিষয়ে সচেতন নয়।’ তিনি এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘একমাত্র সচেতনতার মাধ্যমেই এইডস প্রতিরোধ সম্ভব।’










