অনুমোদিত ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও থাইল্যান্ডে অবস্থান করছেন এমন ১০ হাজারের বেশি বিদেশীকে খুঁজছে দেশটির ইমিগ্রেশন পুলিশ। অবৈধ অভিবাসন ও আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ অভিযানের আওতায় রয়েছে রাজধানী ব্যাংকক, পর্যটকদের জনপ্রিয় দ্বীপ ও সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলো। খবর আসিয়ান নাউ।
ব্যাংককে গত ১৯ অক্টোবর চালানো অভিযানের পর এ নির্দেশ দেন ইমিগ্রেশন ব্যুরোর প্রধান পুলিশ লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোপাসিন পুলসাওয়াত। ওইদিন থাই ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা দক্ষিণ কোরিয়ার পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে আটজন দক্ষিণ কোরীয় ও দুজন চীনা নাগরিককে গ্রেফতার করেন। আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তদন্ত চলাকালে তাদের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়া সাম্প্রতিক আরেকটি ঘটনায় ব্যাংককে ৫৪ বছর বয়সী এক ইসরায়েলি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি থাইল্যান্ডে অবস্থানের অনুমোদিত মেয়াদ ২ হাজার ৯৫ দিন অতিক্রম করেছেন, যা প্রায় ছয় বছরের সমান।
অভিবাসন আইন লঙ্ঘন ও অন্যান্য অপরাধে জড়িত বিদেশীদের বহিষ্কারপ্রক্রিয়াও কঠোর করেছে থাইল্যান্ড। নতুন ব্যবস্থায় ফৌজদারি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিদেশীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা আরো দ্রুত করার সুযোগ রাখা হয়েছে। দেশজুড়ে চলমান অভিযানে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বাসার ঠিকানা, কর্মস্থল এবং তাদের নিয়মিত যাতায়াতের স্থানগুলোয় তল্লাশি ও যাচাই করবেন। অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থানের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জরিমানা, আটক, বহিষ্কার এবং ভবিষ্যতে থাইল্যান্ডে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারেন। দেশটিতে প্রবেশ ও অবস্থানকালে বিদেশীদের যাচাইয়ে আন্তর্জাতিক ওয়ান্টেড তালিকা ও অপরাধসংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার হচ্ছে।
অভিযানে কোনো বাংলাদেশী গ্রেফতারের খবর পাওয়া না গেলেও স্থানীয় গণমাধ্যম বরাতে জানা গেছে, অবৈধ প্রবেশ ও অবস্থানের অভিযোগে চলতি বছরের ৮ এপ্রিল থাইল্যান্ডের সংখলা প্রদেশের চানার একটি রিসোর্ট থেকে ২১ বাংলাদেশীকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে ২৫ মে সীমান্ত এলাকায় আরো ছয় বাংলাদেশী আটক হন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, থাইল্যান্ডের কারাগারে বর্তমানে ১২৭ বাংলাদেশী বন্দি রয়েছেন। এছাড়া ধারণা করা হয় দেশটিতে আনুমানিক প্রায় ৫ হাজার বাংলাদেশী বৈধভাবে রয়েছেন।
ইমিগ্রেশন ব্যুরোর প্রধান নোপাসিন গত ১ অক্টোবর জানান, ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর থেকে ৮১ হাজারের বেশি বিদেশীকে দেশটিতে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়েছে। মাসে গড়ে প্রায় ৭ হাজার।
ইমিগ্রেশন অভিযানের পাশাপাশি চলছে বড় পরিসরের মাদকবিরোধী অভিযানও। ৯ অক্টোবর রয়্যাল থাই পুলিশ ১ দশমিক ৮ টনের বেশি ক্রিস্টাল মেথ, ১ কোটি ৮০ লাখ মেথ ট্যাবলেট এবং ৫৫ কোটি বাথের বেশি মূল্যের সম্পদ জব্দের কথা জানায়।
গত ২৮ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল স্বাক্ষরিত নতুন নির্বাসন পদ্ধতি। অবৈধ প্রবেশ, ওভারস্টে, অনুমোদনহীন কাজ, নথি জালিয়াতি ও গুরুতর অপরাধে প্রযোজ্য এ বিধিতে কারাদণ্ড শেষ হওয়ার পরপরই নির্বাসনের প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে।
দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ওভারস্টে ও অবৈধ কাজের দায়ে ১৪ হাজার ১৬১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ৬৬৮টি স্টুডেন্ট ভিসা বাতিল হয়েছে। এছাড়া ১৯০টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে।










