চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়ায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় আটক এক ব্যক্তিকে জনতার হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে পুলিশের গাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়লে দুই সাংবাদিকসহ ৪ জন আহত হয়েছেন। এক পর্যায়ে পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধরা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বাকলিয়া থানা এলাকার চেয়ারম্যান ঘাটার আবু জাফর রোড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ জনতা সড়কে অবস্থান নিয়ে রাখলে অভিযুক্তকে নিয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বের হতে পারেনি।

ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে পুলিশের ছোড়া গুলিতে আহত দুই সাংবাদিক হলেন চট্টগ্রাম প্রতিদিনের মামুন আবদুল্লাহ ও নোবেল হাসান। বাকি দুজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

এদিকে ঘটনাস্থলে থাকা সংবাদিকরা বণিক বার্তাকে জানান, বাকলিয়ায় বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত ধর্ষককে তাদের হাতে ছেড়ে দিতে চাইলে পুলিশ একটি বাড়িতে আসামি নিয়ে প্রবেশ করে। এসময় বিক্ষুব্ধ মানুষের চাপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও ছররা গুলি চালায়। এই সময়ে ফেসবুক লাইভ চলাকালে পুলিশের গুলিতে মামুনের কোমড়ে এবং নোবেলের হাতে ও পায়ে আঘাত লাগে। পরে তাদের প্রথমে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে তাদের দুইজনকে চমেকের ক্যাজুয়ালিটিতে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এদিকে আহত দুই সাংবাদিককে দেখতে রাত ১০ টার দিকে চমেক হাসপাতালে যান চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এসময় তিনি ভিক্টিম শিশুর খোজ খবর নেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকার এক দোকানের এক কর্মচারী চার বছরের এক শিশুকে দোকানে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে। তবে তাকে থানায় নেওয়ার পথে উত্তেজিত জনতা পুলিশের গাড়ি আটকে দেয় এবং অভিযুক্তকে জনতার হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করেছে। শিশুটিকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু আটক ব্যক্তিকে থানায় নেওয়ার সময় স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ করে। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চলছে।