চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত মনির হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। নগরীর বাকলিয়া থানায় গতকাল দিবাগত গভীর রাতে শিশুটির বাবা মামলা করেছেন বলে জানান সিএমপির উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মো. কবির ভূইয়া। এছাড়া সরকারি কাজে বাধা দেয়ায় পুলিশ মামলা করবে বলেও জানান তিনি।

হোসাইন মো. কবির ভূঁইয়া জানান, শিশুটির বাবা গতকাল ঢাকায় ছিলেন এবং মা ছিলেন গার্মেন্টেসে। তারা কেউ বাসায় না থাকলে এই দম্পতির তিন সন্তান তাদের নানীর কাছে থাকেন। এ সুযোগ নিয়ে সন্দেভাজন মুনির কৌশলে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা বা ধর্ষণ করেছে। তবে বিষয়টি মেডিকেল প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। গতকাল রাতেই শিশুটির বাবা মামলা দায়ের করেন।

তিনি আরো জানান, বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের গাড়ি আটকে রাখা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রায় ৩০/৩৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। এছাড়া পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে একটি মামলা হবে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন জানান, গতকাল সন্ধ্যার পরে আসা সাড়ে তিন বছর বয়সী শিশুটি সুস্থ আছে। নারী চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে। শিশুটির ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নমুনা প্রতিবেদন হাতে পেলে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। প্রতিবেদন হাতে পেতে মাসখানেক সময় লাগতে পারে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে এমন খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা। পরে বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এসময় দুই সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে পুলিশ মোতায়েন বাড়ায়। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।