তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিদেশী মিডিয়ার স্লট ভাড়া করে একটি চিহ্নিত চক্র দেশবিরোধী অপপ্রচার করছে, দেশবাসীকে এদের বিরুদ্ধে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।
গতকাল দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে মুজিব বর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত ‘একুশের চেতনায় বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’
শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, যারা যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা করেছে, মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলেছিল, আমাদের স্বনামধন্য একজন আইনজীবীর মেয়ের ইহুদি জামাতাসহ স্বাধীনতাবিরোধী জামাত চক্র, যারা আজ দেশের মানুষের কাছে নিন্দিত, ঘৃণিত, ধিকৃত ও বর্জিত, তারা এখন তাদের অর্থ-বিত্ত দিয়ে মানুষ ভাড়া করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়ার স্লট ভাড়া করে, মানুষ ভাড়া করে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মিডিয়ায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু প্রতিবেদন সেই অপচেষ্টারই প্রতিফলন মাত্র। কিছু ভুল ও অসত্য তথ্য কাট-পেস্ট করে যে ধরনের প্রতিবেদন প্রচার করা হচ্ছে, সেটি আসলে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছু নয়।
তিনি আরো বলেন, অতীতে যেমন বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছিল, এখনো দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এগুলো করা হচ্ছে। এ ধরনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সজাগ থাকতে হবে। কারণ দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এটি অনেকের পছন্দ নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ সঠিকভাবে করোনা মোকাবেলায় সমর্থ হয়েছে, এটি অনেকের গাত্রদাহ, এজন্যই তারা এ ঘৃণ্য নতুন খেলায় মেতে উঠেছে। কিন্তু এ খেলা খেলে কোনো লাভ হবে না। বিশ্বব্যাংক একসময় বড় একটি দেশের সহায়তা নিয়ে এ দেশে পদ্মা সেতুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল, সেটি ভেস্তে গেছে। এখনো যেসব ষড়যন্ত্র হচ্ছে, সেগুলোও ভেস্তে যাবে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান বলেন, বাংলাদেশ থেকে যারা পলাতক, যুদ্ধাপরাধী ট্রাইব্যুনালে যাদের বিচার হচ্ছে, তারা এখন বিদেশী গণমাধ্যমের স্লট ভাড়া নিয়ে এসব বানোয়াট প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। দেশের মানুষ সজাগ আছে, সতর্ক আছে এবং আওয়ামী লীগের ভিত্তি ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এ সরকারের ভিত্তি তৃণমূলে প্রোথিত। সুতরাং এ ছোটখাটো কাতুকুতু দিয়ে লাভ হবে না।
ইতিহাসের সূত্র ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার নেতৃত্বে সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশ যখন দ্রুত উন্নতির পথে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখনই দেশবিরোধীরা নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল। একে একে পাঁচজন আওয়ামী লীগের এমপিকে হত্যা করে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরি করা হয় এবং জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এখনো বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়নে যখন বিশ্ব প্রশংসায় পঞ্চমুখ, মানব উন্নয়ন-অর্থনৈতিকসহ সব সূচকে যখন আমরা বহু আগে পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছি, করোনাকালে ধ্বনাত্মক জিডিপি প্রবৃদ্ধির মাত্র ২২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ যখন বিশ্বে তৃতীয় স্থান অর্জন করে, করোনাকালে অনাহারে মৃত্যুর সব শঙ্কা মিথ্যা প্রমাণ করে বাংলাদেশ যেভাবে করোনা মোকাবেলা করেছে, যখন সারা বিশ্ব এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছে, এই সময়ে দেশের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র চলছে, এসব তারই অংশ।
চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল আমিন রুহুল, আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দার ও এমএ করিম বিশেষ অতিথি হিসেবে সভায় বক্তব্য রাখেন। সভাপতিত্ব করেন স্বাধীনতা পরিষদের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার জাকির আহম্মদ ও অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন টয়েল।










